ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ‘জুলাই ঘোষণাপত্র: নারীদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢাকা, ২৫ জুন
ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ‘জুলাই ঘোষণাপত্র: নারীদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢাকা, ২৫ জুন

আলোচনা সভায় বক্তারা

জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে নারীদের অবদানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে

শেখ হাসিনার পতন নারীদের হাত দিয়েই শুরু হয়েছিল; কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পরে নারীদের সেই ইতিহাস ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে এ অভ্যুত্থানে নারীদের অবদানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। যদি সাংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকে, তাহলে ৩০ বছর পরে জুলাইয়ে তাঁদের অবদান বিস্মৃত যাবে।

বুধবার বিকেলে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র: নারীদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীরা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনের আবদুল্লাহ ফারুক অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের আগে হাসিনা দমন-পীড়ন চালিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগ দিয়ে। রাজাকার বলে মানুষকে নির্যাতনের বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্নমত পোষণ করার কারণে অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদেরও রাজাকার ট্যাগ দিয়েছে।’

আশরেফা খাতুন আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের কথা যদি চিন্তা করি, সেটার সূচনা হয়েছে ১৪ জুলাই রাতে, যার নেতৃত্বে ছিলেন নারী শিক্ষার্থীরা। এ জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এক দিনে তৈরি না হলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা ১৪ জুলাই রাতেই হয়েছে। যেখানে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। হাসিনার পতন নারীদের হাত দিয়েই শুরু হয়েছে।’

অ্যাকশন ফর কমিউনিটি ট্রান্সফরমেশনের প্রতিষ্ঠাতা নাফিসা ইসলাম বলেন, এ দেশের সব আন্দোলনেই নারীদের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে জাতি দেখেছে কীভাবে মেয়েরা রাস্তায় নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের পরেও যেন তাদের বারবার রাস্তায় নামতে না হয় নিজেদের অধিকারের জন্য, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র নওশীন নওয়ার বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের গুরুত্বটা বুঝতে হবে। জুলাইয়ে একক কোনো গোষ্ঠীর অবদান ছিল না। এটি প্রতিটি শ্রেণির মানুষ মিলেই সম্পন্ন হয়েছে।

আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা বলেন, ‘আমরা চাই, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারী শহীদদের পুরুষ শহীদদের মতো সমান গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের মতামতের গুরুত্ব প্রদান করার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ‘জুলাই কন্যা’ প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা জান্নাতুন প্রমী, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্নাসহ অনেকে বক্তব্য দেন।