
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত বড় বড় আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলো আগের মতো কাজ করতে পারছে না। তাই মধ্যম শক্তি হিসেবে অবস্থান সুদৃঢ় করতেই বর্তমান সরকার বিভিন্ন জোটের সদস্য হতে আগ্রহী।
আজ শনিবার সকালে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেন) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা এ কথা বলেন। ব্রেন আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার প্রচার সহযোগী প্রথম আলো। কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই নীতিতে এগোচ্ছে সরকার।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় নীতিতে বিশ্বাসী। তাই ব্রিকস, আসিয়ান, এসসিও এবং আরসিইপির মতো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক জোটে যোগ দিতে গভীরভাবে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘ক্ষয়প্রাপ্ত বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলা এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত বড় বড় আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায় আছে। এগুলো আগের মতো কাজ করতে পারছে না। তাই মধ্যম শক্তি হিসেবে অবস্থান সুদৃঢ় করতেই বর্তমান সরকার এসব জোটে সদস্যপদ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় ঋণ বা সাহায্যের পরিবর্তে সরকার শিল্পায়ন ও উৎপাদনমুখী সরাসরি বিনিয়োগ এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘টু প্লাস টু’সহ নানা উপায়ে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের কৌশলগত উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।
শিক্ষক ও গবেষক আসিফ বিন আলীর সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ঢাকা–১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন ও মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ব্রেনের নির্বাহী পরিচালক সফিকুর রহমান।