
ফেসবুকসহ অনলাইনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অন্য দলের নারী এবং সার্বিকভাবে নারীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য, অপতথ্য ছড়াচ্ছেন, বাজে মন্তব্য করছেন। তবে এসব প্রতিকারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় আলোচকেরা এ কথা বলেছেন। তাঁরা বলেন, শুধু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নয়, অন্যান্য দলেও নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব একেবারেই কম রাখা হয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী, প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকারবিষয়ক প্যানেল আলোচনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ যেকোনো বিষয়ে কর্তৃপক্ষ চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু নারী বিষয়ে কুৎসা রটানোসহ বিভিন্ন ঘটনায় তেমন উৎসাহ দেখায় না। এর পেছনেও ব্যবসা আছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর যেভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে, সরকার তখন কী করেছে? প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা তখন নিশ্চুপ ছিলেন। তিনি নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনীতিতে টাকার খেলা, পুরুষতন্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয় নারীদের আরও পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নারীরা টিকতে পারছে না।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, অনলাইনে নারীদের নিয়ে অনেক মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কমিশনে এ বিষয়গুলো নজরদারির জন্য একটি সেল গঠন করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সোর্স চিহ্নিত করা যায় না। দেশের বাইরে থেকেও অনেকে গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি এসব অপতথ্য ঠেকানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রাশনা ইমাম বলেন, বট বাহিনী নির্বাচনের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিভিন্নভাবে আক্রমণ করছে। এতে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান, স্বামীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে তিনি নিজেও বট বাহিনীর আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বেপর্দা বউকে মাঠে নামানো হয়েছে, বউকে দিয়ে ব্যবসা করানো হচ্ছে, এমন মন্তব্য শুনতে হচ্ছে।
রাশনা ইমাম বলেন, অনলাইনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলেও তা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। নির্বাচনের পরে নিষ্পত্তি হলে তো আর কোনো লাভ হবে না।
টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাবহানাজ রশীদ দিয়া বলেন, নির্বাচনী প্রচার দেখতে তিনি ঢাকার বাইরে ২০টি জেলায় ঘুরেছেন। ঢাকার বাইরে অনলাইনের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও ঢাকায় এর প্রভাব পড়ছে। তিনি নির্বাচনে ‘ডিজিটাল অবজারভার’ বা ডিজিটাল পর্যবেক্ষক রাখার সুপারিশ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী, প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকারবিষয়ক প্যানেল আলোচনায় সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সদস্য মাহরুখ মহিউদ্দিন।
দলীয় ইশতেহারে নারী অধিকার ও বাস্তবায়নবিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন খান। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল থেকে নারীদের ‘মা-বোন’ ডাকা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিভাষায় মা-বোন ডাকার পেছনে জেন্ডার পলিটিকস আছে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি নিজে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার আইনজীবী সাবিকুন নাহার, হেযবুত তওহীদের নেত্রী রুফাইদা পন্নী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।