একই ব্যক্তিকে দুবার স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সুযোগ রেখে স্বাধীনতা পুরস্কারসংক্রান্ত নির্দেশনাবলি সংশোধন করেছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশোধন অনুযায়ী, এখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একবার এই পুরস্কার পাওয়ার পর অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখলে কমপক্ষে ২৫ বছর পর পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারবেন।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য এবার মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকায় ডা. মো. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম আসার পর জানা যায়, এর আগেও এই পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।
একই ব্যক্তিকে সাধারণত দুবার স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয় না। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্বাধীনতা পুরস্কারসংক্রান্ত নির্দেশনাবলি সংশোধন করল।
গতকাল রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে এই সংশোধনী আনা হয়। এতে বলা হয়, স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার বা অন্য কোনো জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার দেওয়ার জন্য বিবেচনা করা হবে না। তবে শর্ত হলো, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কার পাওয়ার পর অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখলে অন্যূন ২৫ বছর পর ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া যাবে।
৫ মার্চ ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে সরকার। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে এবার সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারীশিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য খালেদা জিয়াকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তির মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও (মরণোত্তর) আছেন। তাঁকে এবার সমাজসেবায় এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে ১৯৭৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া আছে। তাতে দেখা যায়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৭৭ সালেও স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিলেন। তখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।
স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
এবার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৩ ব্যক্তি হলেন মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এ ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।