বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল
বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল

সাক্ষাৎকার: রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল

বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে চায় নেদারল্যান্ডস

বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অর্ধশতক কালের। উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে এখন অন্য অনেক ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়েছে সহযোগিতা। ২৭ এপ্রিল নেদারল্যান্ডসের ‘কিংস ডে’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্পর্কের রূপান্তরের কথা শুনিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের ‘অরেঞ্জ কর্নারস’ উদ্যোগে কীভাবে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তারা সুফল পাচ্ছেন, তা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি কথা বলেন অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং এলডিসি থেকে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণসহ নানা বিষয়ে। ২৩ এপ্রিল এই সাক্ষাৎকারটি নেন প্রথম আলোর কূটনৈতিক প্রতিবেদক রাহীদ এজাজ

প্রশ্ন

বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের অংশীদারত্বের পাঁচ দশক পেরিয়েছে। ঐতিহ্যগত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে এই সম্পর্ক বাণিজ্য ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক সম্পর্কে রূপান্তরিত হয়েছে। দুই দেশের এই পরিবর্তনশীল সম্পর্ককে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

জরিস ভ্যান বোমেল: নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, এবং অবশ্যই আগামী বছরগুলোতেও যা দেখব, নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ রাজনৈতিক পর্যায়ে আরও বেশি কাজ হচ্ছে এবং সহযোগিতার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। আমরা একই ধরনের দেশ—পানি ব্যবস্থাপনা করতে হয়, ডেলটা অঞ্চল নিয়ে কাজ করতে হয়। আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারি, আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

আমরা দেখছি যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা সেটি একটি উন্নয়নমুখী বাণিজ্য সম্পর্কের ভিত্তিতে করতে চাই। অর্থাৎ অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে, যে স্বার্থগুলো বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারি, বিশেষ করে পানি, কৃষি, অবশ্যই তৈরি পোশাক শিল্প এবং সামুদ্রিক খাতে। ব্যবসা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি? ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি? এবং এসব খাতে তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি?

প্রশ্ন

সম্প্রতি আপনারা বাংলাদেশে ‘অরেঞ্জ কর্নারস’ উদ্যোগ শুরু করেছেন। এই উদ্যোগ সম্পর্কে আপনি কিছু আলোকপাত করতে পারেন? তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের সহায়তায় এ পর্যন্ত কতটা অগ্রগতি হয়েছে? এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

জরিস ভ্যান বোমেল: আমি মনে করি, তরুণরাই ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশে প্রচুর তরুণ রয়েছে এবং অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী উদ্যোক্তামনস্ক তরুণ-তরুণী রয়েছে। তরুণেরা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, তারা বর্তমানও। বাংলাদেশে ‘অরেঞ্জ কর্নারস’ কর্মসূচি আমাদের জন্য সত্যিই একটি ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ, বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য। আমরা ‘অরেঞ্জ কর্নারস’ কর্মসূচিটি ওয়াই ওয়াই ভেঞ্চার্সের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছি, পাশাপাশি সাজেদা ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও কাজ করছি। এতে ইউনিলিভার বাংলাদেশও যুক্ত। মূলত উদ্যোগটি এই বিষয়টি দেখার জন্য যে আমরা কীভাবে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে, নারী ও পুরুষ উভয়ের সঙ্গেই কাজ করতে পারি, যাতে তাদের প্রথম পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করা যায়। ‘অরেঞ্জ কর্নারস বাংলাদেশ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা একটি ইনকিউবেশনের সুযোগ সৃষ্টি করি। আমরা এটি সারা দেশে পরিচালনা করছি। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫০ শতাংশই নারী, তরুণ নারী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ইকোসিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, উদ্যোক্তা দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

আমাদের আরেকটি কর্মসূচিও রয়েছে, যা অর্থায়নের সুযোগ করে দেয়, যার নাম ‘অরেঞ্জ কর্নারস ইনোভেশন ফান্ড’। ইনকিউবেশন পর্যায়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ইউরো পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, এটি প্রথম ধাপ। কিন্তু আপনি যদি এগিয়ে যান এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থায়নের পর্যায়ে পৌঁছান, তাহলে আমরা ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত যেতে পারি, যাতে তরুণ উদ্যোক্তারা একটি ভালো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে তাদের ব্যবসা শুরু করতে পারে। আমার ধারণা, এখন অরেঞ্জ কর্নারসে ৮০টিরও বেশি উদ্যোগ রয়েছে। এবং আমরা আগামী তিন বছর—২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত—এই কর্মসূচি চালিয়ে যাব। কারণ, আমরা বাংলাদেশে তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে নারী নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন

সম্প্রতি দুই দেশ নৌ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এই খাতে অংশীদারত্বকে আপনি কীভাবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা কীভাবে এগোবে?

জরিস ভ্যান বোমেল: যে সমঝোতা স্মারক আমরা স্বাক্ষর করেছি, সেটি নৌ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতা নিয়ে। নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশ পানিভিত্তিক দেশ। আমরা সমুদ্র, মহাসাগর, নদী ইত্যাদি নিয়ে কাজ করি। এই সহযোগিতার সম্পর্কে নৌ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, দক্ষতা ও তথ্য বিনিময়, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই চুক্তি আমাদের দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব এবং কৌশলগতভাবে কাজ করার একটি মনোভাবকে প্রতিফলিত করে, বিশেষ করে সামুদ্রিক খাতে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।

সহযোগিতার যে বিষয়গুলো আমরা বিবেচনা করছি এবং যেগুলোর ওপর আমরা কাজ করছি, তা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রজুড়ে বিস্তৃত। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিরক্ষা নৌ সরঞ্জাম, দক্ষতা ও তথ্য বিনিময়, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। আপনি নৌ প্রতিরক্ষা শিল্প, সমুদ্র ব্যবস্থাপনা, জাহাজ নির্মাণ, নজরদারি প্রযুক্তি এবং নৌ প্রকৌশলের মতো ক্ষেত্রগুলো ভাবতে পারেন, যেখানে আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যেখানে আমরা সহযোগিতা আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করতে চাই। ইতিমধ্যে আমাদের কিছু প্রতিষ্ঠান এই খাতে কাজ করছে। যেমন ড্রেজিং কোম্পানি বোস্কালিস, ফন উর্ড, জাহাজ নির্মাণ কোম্পানি রয়্যাল আইএইচসি, ড্যামেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় থালেস। এ ছাড়া মায়ের্সক গ্রুপের এপিএম টার্মিনালস বড় বিনিয়োগ করছে। আমরা নৌ নিরাপত্তা, নৌ গবেষণা ও উদ্ভাবন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিং এবং সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা দেখি।

প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করে যেতে চায় তাঁর দেশ
প্রশ্ন

নৌ খাত ছাড়াও কি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে? যেমন বিমানবাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে?

জরিস ভ্যান বোমেল: হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই। এবং সে কারণেই এই সাক্ষাৎকারের পর আমি বাংলাদেশ পিস সাপোর্ট অপারেশনস ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে যাচ্ছি। সেখানে আমরা সহযোগিতা করি। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশের প্রশংসা করি। বিশ্বে শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ ও শান্তিরক্ষা গোয়েন্দা সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করি। এটি শুধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্যও, যাতে তারা শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার আগে আরও ভালোভাবে তৈরি হতে পারে।

প্রশ্ন

নেদারল্যান্ডস ডেলটা প্ল্যান ২১০০-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু–সহনশীলতা এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্পর্কটি কেমন হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

জরিস ভ্যান বোমেল: আমি মনে করি, আমরা পানি ব্যবস্থাপনা এবং ডেলটা পরিকল্পনায় স্বাভাবিক অংশীদার। ‘বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান ২১০০’ নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সহযোগিতা কার্যক্রম। আমাদের কাজ হলো এই পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবায়নমুখী করা। বিশেষ করে জলবায়ু–সহনশীলতা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং উপকূলীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে। এটি বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত, যেমন খাল পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা কমানো, শহর ও গ্রামাঞ্চলে পানিনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন। আমাদের কিছু প্রকল্প রয়েছে, যেমন কল্যাণপুর খাল প্রকল্প, সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রকল্প ইত্যাদি। ড্রেজিং, পলি ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত নদী ও খাল ব্যবস্থাপনায় আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাই। ডাচ কোম্পানিগুলো উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আসতে পারে। যেমন ইন্টেলিজেন্ট ড্রেজিং, নদী ব্যবস্থাপনা, যমুনা নদী ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার, নগর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা প্রতিরোধ অবকাঠামো নির্মাণ। আমরা মনে করি, এই খাতে বেসরকারি খাতকে আরও বেশি যুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ পানি খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। এ ছাড়া গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ও মানুষকেন্দ্রিক পদ্ধতির ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাংলাদেশে সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় সহযোগিতা চালিয়ে যেতে চাই।

প্রশ্ন

এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আপনি কীভাবে দেখছেন?

নেদারল্যান্ডসের ‘কিংস ডে’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ২৩ এপ্রিল প্রথম আলোকে সাক্ষাৎকার দেন নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল

জরিস ভ্যান বোমেল: প্রথমত, নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫০ বছরের দীর্ঘ এই সম্পর্ককে আমরা আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চাই। এটি শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়, বরং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিকেও হতে হবে। বাংলাদেশ শুধু উত্তরণ করছে না, বরং একটি অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তি, মানবাধিকার এবং সুশাসনও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোই ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে, তবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তাই এলডিসি উত্তরণের আগে এবং পরে উভয় সময়েই টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। নেদারল্যান্ডস চায় পানি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক খাত, ভবিষ্যৎমুখী তৈরি পোশাক শিল্প এবং টেকসই কৃষিতে সহযোগিতা করতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মিলিতভাবে আমরা চাই বাংলাদেশ এই উত্তরণপ্রক্রিয়ায় একটি ‘সফট ল্যান্ডিং’ করুক। এর জন্য শ্রম অধিকার, ব্যবসার পরিবেশ এবং পরিবেশগত মানদণ্ডে কিছু বাস্তব সংস্কার প্রয়োজন।

প্রশ্ন

রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গা সংকট নেদারল্যান্ডস কী চোখে দেখছে এবং এর সমাধানে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

জরিস ভ্যান বোমেল: আমরা রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার কারণে নিজেদের গ্রাম ও শহর থেকে পালিয়ে এসেছে, এটিও আমাদের উদ্বেগের বিষয়। এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করি। নেদারল্যান্ডসসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই সংকটে বাংলাদেশের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখা। রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়নের কর্মসূচিটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং আমরা জাতিসংঘের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে থাকি। একই সঙ্গে আমাদের একটি ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে, একদিকে কার্যকরভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা। এখানে লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করা।

প্রশ্ন

ভবিষ্যতে নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কোনটি হবে?

জরিস ভ্যান বোমেল: আমি মনে করি, দুই দেশকে ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে, এমনকি ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও। আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করতে পারি, যেমন নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ) বা অন্যান্য বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে। অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, যা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে আরও টেকসই অর্থনীতির দিকে নিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, বীজ উন্নয়ন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণেও সহযোগিতা সম্ভব। ভবিষ্যতের সামুদ্রিক খাত গড়ে তুলতেও আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। এসব খাতে নেদারল্যান্ডসের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নেদারল্যান্ডস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বলছেন রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল
প্রশ্ন

আপনি ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়টি কি ব্যাখ্যা করবেন?

জরিস ভ্যান বোমেল: বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, শুধু নেদারল্যান্ডসের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও। এই কারণে আমাদের আন্তর্জাতিক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, জ্বালানি খাত এবং ভবিষ্যতের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য দ্রুত সমাধান খুঁজতে হবে। নেদারল্যান্ডস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন

আপনাকে ধন্যবাদ।

জরিস ভ্যান বোমেল: ধন্যবাদ।