গ্রেপ্তারের পর আদালতে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক
গ্রেপ্তারের পর আদালতে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক

খায়রুল হককে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহমুদুল হাসান এ আবেদন করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালীর বউবাজার রোডে ছাত্র–জনতার ওপর নির্বিচার গুলি ছোড়েন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। লর্ড হার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. আরিফের চোখের নিচে গুলি লাগে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে খায়রুল হকের জড়িত থাকার ব্যাপারে সাক্ষ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনকালে হত্যাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলাসহ পৃথক চার মামলায় ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ১১ মার্চ তাঁকে হাইকোর্ট জামিন দেন। এরপর তাঁর আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। সব কটিতে তিনি জামিন পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।

এখন খায়রুল হককে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করল পুলিশ।