
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। ২০৪১ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটে কমলেও এবার অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এই খাতে ৮ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চলমান বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এবার উন্নয়ন বাজেটের সাড়ে ১২ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভবিষ্যতে বর্ধিত বিদ্যুৎ চাহিদার বিষয় বিবেচনায় রেখে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
প্রস্তাবিত বাজেটের সংক্ষিপ্তসার বলছে, উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দের মধ্যে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে চলতি বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছিল ১ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। এবার এ খাতে ৯১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর বিদ্যুৎ খাতে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ আছে ২৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এবার এটি আরও বাড়িয়ে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি তেলের মজুত ক্ষমতা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিনে উন্নীত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের খনি থেকে কয়লা উৎপাদন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, দেশের পাঁচটি কয়লাখনিতে ৭ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন টন কয়লা মজুত আছে। দেশের কয়লাক্ষেত্র থেকে কয়লা সংগ্রহের কারিগরি ও অন্যান্য সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার আশা করছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১২ হাজার ৯৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট আমদানি হচ্ছে। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। ভুটানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তবে চলমান জ্বালানি–সংকটের মধ্যেও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ কমার সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দেওয়া দরকার। সরকার একাধিক প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেছে। আগে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে টাকা নিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান করা হতো। এলএনজি আমদানি করে এখন সেই তহবিল অনেকটা ফাঁকা। তাই সরকারি বরাদ্দ লাগবে এ খাতে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে দুর্বলতা নজরে এসেছে, তা দূর করা হয়নি। আর বর্তমান জ্বালানি–সংকট উত্তরণে যে পরিবর্তন দরকার, তা না করে জ্বালানি খাতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মানে আমদানিনির্ভর জ্বালানির দিকেই থাকছে সরকার।