
রাজধানীর আসাদগেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের তেলের লাইনে আজ শুক্রবার ছুটির দিনে সকাল ছয়টা থেকে অপেক্ষা করছেন চালক শহীদুল ইসলাম। ভোরে তেল নিতে আসেন তিনি। ভেবেছিলেন চাপ কিছুটা কম থাকবে। অল্প সময়ের মধ্যে তেল নিয়ে বাসায় গিয়ে বিশ্রাম করবেন। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাননি।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পাম্পের পাশেই এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন শহীদুল ইসলাম। সেখানেই তাঁর সঙ্গে কথা হয়।
শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভোর থেকে পাঁচটি পাম্প ঘুরেছেন। সব জায়গায় লম্বা লাইন। তখন এই পাম্পে লাইন কিছুটা কম ছিল। তাই সকাল ছয়টা থেকে অপেক্ষা করছেন। আক্ষেপ করে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও তেল পাইনি। ছুটির দিনের অর্ধেক সময় তেলের লাইনে অপেক্ষা করতেই শেষ। তেল নিতে এসে ফেঁসে গেছি মনে হচ্ছে।’
গাড়ির তেল একেবারে কমে গেছে। আর মাত্র অল্প কয়েক কিলোমিটার চলবে। তাই আজ তাঁকে তেল নিতেই হবে বলেন তিনি।
একই জায়গায় অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী শাহরিয়ার রহমান। তিনি মোটরসাইকেলের লাইনে অপেক্ষা করছেন। ক্লান্ত হয়ে তিনিও রাস্তার পাশের ফুটপাতে গাছের ছায়ায় বসে ছিলেন।
শাহরিয়ার রহমান বলেন, তিনি খিলক্ষেত থেকে তেল নিতে ভোরে বের হয়েছেন। রাজধানীর তিনটি পাম্প ঘুরে এই পাম্পে এসেছেন। ছয় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মোটরসাইকেল দুই দিন ধরে রিজার্ভে চলছে। আজ তেল নিতে না পারলে আগামী রোববার অফিসে যেতে পারব না। তাই কষ্ট হলেও অপেক্ষা করছি।’
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন আসাদগেট থেকে শুরু হয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর মোড় পার হয়ে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত চলে গেছে। দুপুর ১২টার দিকে এই পাম্পের লাইনে ২৩০টি প্রাইভেট কার ও ১৩৮টির মতো মোটরসাইকেল দেখা গেছে। অনেক চালক গাড়ির মধ্যেই ঘুমিয়ে গেছেন। আর অন্য চালকেরা রাস্তার পাশের ফুটপাতে গাছের ছায়ায় বসে আছেন।
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. এরশাদ খান জাবেদ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তেল শেষ হয়ে গেছে। সকাল আটটার দিকে তেল আনতে গাড়ি ডিপোয় গেছে। গাড়ি এলে বিক্রি শুরু হবে। ডিপোয়ও গাড়ির লাইন দীর্ঘ। কখন আসবে তিনি জানেন না।
শুধু তালুকদার ফিলিং স্টেশন নয়, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের ব্যক্তিগত গাড়ির শেষ প্রান্ত পাম্প থেকে জাহাঙ্গীর গেট হয়ে মহাখালী পার হয়ে তেজগাঁও পর্যন্ত গেছে। মোটরসাইকেলের লাইন গিয়ে ঠেকেছে প্রায় জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত। বেলা একটার দিকে এই পাম্পের লাইনে ব্যক্তিগত গাড়ি ৪২১টি ও ৬৩৩টি মোটরসাইকেল দেখা গেছে।
মহাখালীর ইউরেকা ফিলিং স্টেশনের গাড়ির লাইন মহাখালী ছাড়িয়ে তেজগাঁও পর্যন্ত, আসাদগেটের সোনারবাংলা সার্ভিস সেন্টারের লাইন ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মোড় পর্যন্ত ও তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশনের ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে গেছে।
ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের অপেক্ষায় থাকা আবদুল্লাহ আল মামুন বেলা দেড়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সিটি কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করেন। তেল না থাকায় গত সপ্তাহে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে দুই লিটার তেল নিয়ে কলেজে গিয়েছেন। আজ কলেজ বন্ধ থাকায় ভোর পাঁচটায় তেলের লাইনে অপেক্ষা করছেন। আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। কখন তেল পাবেন জানেন না।