
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের পর গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিনকে বদলি করা হয়েছে—এমন দাবি করে একটি ফটো কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফটোকার্ডে গুলশান থানার ওসির ছবির সঙ্গে একটি মন্তব্যও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের পর ওসি বদলি। ওসির প্রশ্ন...আমাকে কেন, গুলশানের এমপি তারেক রহমানকে বদলি করা হোক! মো. আল আমিন-ওসি: গুলশান থানা।’
গতকাল শুক্রবার থেকে ফেসবুকে আওয়ামী–সমর্থিত ও অন্যান্য রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত ৫৫টির বেশি পেজ ও প্রোফাইল থেকে একই রকম দাবিতে ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখা গেছে। কেউ আবার ওসির বদলি ও মন্তব্যকে সত্য মনে করে ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশ করেছে।
তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ফটোকার্ডে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়। গুলশান থানায় মো. আল আমিন নামের কেউ ওসির দায়িত্ব পালন করছেন না। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের মিছিলের কারণে গুলশান থানার ওসিকে বদলি করা হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। মিছিল কেন্দ্র করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির মন্তব্য ও বদলির দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, মিছিল থেকে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে গুলশান থানার পুলিশ।
লিংক: এখানে
তবে এসব প্রতিবেদনে গুলশান থানার ওসি হিসেবে মো. আল আমিনের নাম পাওয়া যায়নি; বরং সেখানে গুলশান থানার ওসি হিসেবে মো. দাউদ হোসেনের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।
গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে জানান, গুলশান থানায় মো. আল আমিন নামে কোনো ওসি নেই। তিনিই বর্তমানে থানাটির ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওসি বদলির বিষয়ে দাউদ হোসেন বলেন, এটি বানোয়াট ও অপপ্রচার। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
একই বিষয়ে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে জানান, গুলশান থানার ওসি প্রত্যাহারের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।