
অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও জালিয়াতির মামলায় নাইজেরিয়ার নাগরিক সিদিএবেরে স্যামুয়েল ওকেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রোববার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। ওই দিন আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। সে অনুযায়ী আজ বিকেলে তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে রিমান্ড আবেদনের পক্ষে ও বিপক্ষে শুনানি হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিকে পাসপোর্টে জাল সিল মারার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তথ্য গোপন করে এলোমেলো তথ্য দেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে আসামিকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জাল সিল কার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কি না এবং বাংলাদেশে কীভাবে অনুপ্রবেশ করেছেন—এসব বিষয় জানার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসে নাইজেরিয়ায় যাওয়ার জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালে আসেন সিদিএবেরে স্যামুয়েল ওকেকে। ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে ওই যাত্রীর পাসপোর্টের ‘অ্যারাইভাল সিল’ (আগমনের সিল) সন্দেহজনক মনে হয়। অধিকতর যাচাইয়ের জন্য তাঁকে শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক রায়হানুল ইসলাম মো. আখলাক হোসেন খানের কাছে পাঠানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই নাইজেরীয় নাগরিক জানান, তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তাঁর পাসপোর্টের ১০ নম্বর পাতায় ১৯ জানুয়ারি তারিখের একটি সিল ছিল। সিলটি সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশনের সিলের মতো হওয়ায় বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট বরাবর বেতারবার্তা পাঠানো হয়। পরে ফিরতি বার্তায় জানা যায়, ওই দিন কোনো নাইজেরীয় যাত্রী ভারত থেকে তামাবিল ইমিগ্রেশন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেননি এবং পাসপোর্টের সিলটি জাল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে জাল অ্যারাইভাল সিল ব্যবহার করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছেন।
এ ঘটনায় ৪ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরের পুলিশ পরিদর্শক রায়হানুল ইসলাম মো. আখলাক হোসেন খান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।