
প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবন থেকে ছড়িয়ে গেল আলো। গতকাল বুধবার বসন্তের রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভবনে শুরু হলো ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’। সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার ভবনটিতে শিল্পকর্ম করেছেন বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান।
প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকেরা বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। সংহতি প্রকাশ করেন প্রথম আলোর প্রতি।
প্রদর্শনী চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল প্রতিহিংসাপরায়ণ উগ্রবাদী প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের পর প্রথম আলো ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবন নিয়ে শিল্প-আয়োজন শুরু। প্রদর্শনী চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা-১টা ও ৩টা-৫টা। প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।
সকালে উদ্বোধনের পর বিকেলে প্রদর্শনীটি ছিল বিদেশি কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য। উগ্র হামলাকারীদের পুড়িয়ে দেওয়া প্রথম আলো ভবনে আয়োজিত শিল্প প্রদর্শনীতে এসে বিদেশি কূটনীতিকেরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ ও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
কূটনীতিকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘আমি ও আমার অনেক সহকর্মী প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে ডিসেম্বরে এখানে এসেছিলাম। আমরা আবারও এখানে এসেছি। কারণ, আমরা গণমাধ্যমের ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে গণমাধ্যমকর্মীরা হচ্ছেন গণতন্ত্রের সুরক্ষায় নির্ভীক।’
কূটনীতিকদের মধ্যে আরও যাঁরা সংহতি প্রকাশ করেছেন, তাঁরা হলেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়েগা ওচহোওয়া দি চিনচিত্রু, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্ট জিও ভানেতি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ও সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি।
ধ্বংসস্তূপের ভেতর নতুন প্রাণশক্তির উত্থানের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছি।মাহ্বুবুর রহমান, শিল্পী
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাস এবং ইউএনডিপি, ইউএনউইমেন ও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ঢাকা দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও প্রথম আলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তাঁদের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি এই ধ্বংসস্তূপের ভেতর নতুন প্রাণশক্তির উত্থানের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন। এখানে যেসব বস্তু দগ্ধ হয়েছে, সেগুলো যেন এই কর্মস্থলের প্রাণস্পন্দের কথা ও দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণার কথাই বলেছে। সেই যন্ত্রণা ও সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানো—উভয় বিষয়কে নান্দনিকভাবে তিনি তুলে ধরেছেন।
ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার—এ দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্য ছিল খুবই হৃদয়বিদারক। তবে সৌভাগ্যের বিষয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। একটা বড় দুর্যোগের মধ্য পড়লেও শেষ পর্যন্ত সবাই রক্ষা পেয়েছেন। সিমিন রহমান বলেন, এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রথম আলো, ডেইলি স্টার–এর সাংবাদিকেরা প্রচণ্ড সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুত কাজে ফিরে এসেছেন।
এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আগুন। চিন্তার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আগুন।মাহফুজ আনাম, সম্পাদক, ডেইলি স্টার
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘এই দুটি ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনা আমাদের ভেতরে সাংবাদিকতাকে আরও উচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণার আগুন জ্বালিয়েছে।’
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সেই দুঃসময়ে অনেকে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দিয়েছেন। সংহতি প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও গণমাধ্যম আমাদের পাশে ছিল। সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ।
অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, আইনজীবী সারা হোসেন, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ খান মো. রবিউল আলম, তাসনিম জারা প্রমুখ।
আমন্ত্রিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পারটেক্স স্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, ইউনাইটেড গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন হাসান রশিদ, অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহির, প্রগতি ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ এম আলতাফ হোসেন, এথিকস অ্যাডভান্স টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান প্রমুখ।
পরে বিদেশি কূটনীতিকেরা ভবনজুড়ে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। তাঁরা শিল্পকর্ম দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রদর্শনীটি বিশ্বমানের বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে বেলা ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনের সামনে দেশের সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমের কর্মীরা প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অতিথিরা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব ও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘প্রদর্শনীতে আমরা শুধু বিধ্বস্ত ভবন দেখব না, চিন্তাকে রুদ্ধ করার ঘৃণ্য হামলা এবং সেখান থেকে উত্তরণের চেষ্টাও দেখব। আমাদের কথা বলার অধিকারে সোচ্চার থাকার প্রেরণাও জোগাবে এই প্রদর্শনী।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।এ কে আজাদ, সভাপতি, নোয়াব
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, প্রথম আলো ভবন যেভাবে পোড়ানো হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে পুড়িয়ে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা যায় না। নতুন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। হামলার পরও সাংবাদিকেরা ভয় পেয়ে পালিয়ে যাননি। পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তাঁরা সাহসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
এ কে আজাদ বলেন, ভবিষ্যতেও হয়তো সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ওপর আঘাত আসতে পারে। এ শঙ্কা থেকেই পরিস্থিতি প্রতিহত করার জন্য সাংবাদিকদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেবে।হাসান হাফিজ, সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ প্রদর্শনী দেখে তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রথম আলোতে যে ভয়ানক বর্বরতা চালানো হয়েছে, সেখানে শিল্পী একই সঙ্গে ধ্বংস ও সৃষ্টির সমন্বয় করেছেন। প্রদর্শনীটি খুবই বিস্ময়কর ও গভীর অর্থময়তা প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তারা দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেবে।
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘প্রথম আলো, ডেইলি স্টার–এ হামলার ঘটনা বিশ্বের কাছে আমাদের দেশ সম্পর্কে অত্যন্ত খারাপ ধারণা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার ইতিহাস ধরে রাখার জন্য প্রথম আলো প্রদর্শনীর মাধ্যমে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার–এ হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে।কাদের গনি চৌধুরী, মহাসচিব, বিএফইউজে
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘এখানে আমরা একটি গণমাধ্যমের কঙ্কাল দেখতে পাচ্ছি। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার–এ হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই কঙ্কালের ভেতর থেকে প্রাণের প্রকাশ ঘটেছে।’ সাংবাদিকতার মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রথম আলো-ডেইলি স্টার পুড়িয়ে দেওয়া বিশ্বে আমাদের দেশ সম্পর্কে অত্যন্ত খারাপ ধারণা সৃষ্টি করেছে।দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক পরিষদ
আলোচনায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এ আগুন দেওয়ার ঘটনাটি কেবল এই দুটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ নয়, এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আগুন। চিন্তার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আগুন। এ হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এর পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্য ছিল। তিনি এ ঘটনা যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান প্রদর্শনীর জন্য শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রথম আলোতে হামলার পর যাঁরা পাশে থেকেছেন, সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন, সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘আবার যদি কারও ওপর কোনো আঘাত আসে আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিবাদ করব। একই সঙ্গে আমাদের সত্যনিষ্ঠভাবে সাংবাদিকতাও করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সত্যই হলো আমাদের সব থেকে বড় শক্তি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার-এর কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, আমার দেশ–এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান, আইনজীবী মানজুর-আল মতিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম মহসীন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান সোহেল, ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেনস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন, শফিকুল করিম, মাসুদ কামাল, জাহিদ নেওয়াজ খান, রেজানুর রহমান, জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক রফিকুর রহমান ও নাসির আলী মামুন।
আরও ছিলেন এটিএন বাংলার পরিচালক (বার্তা) হাসান আহমদ চৌধুরী কিরণ, এএফপির ব্যুরো চিফ শেখ সাবিহা আলম, রয়টার্সের ব্যুরো চিফ রুমা পাল প্রমুখ।