
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ) ‘টাঙ্গাইলের তাঁত: ঐতিহ্যের মালিকানা ও শিল্পের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সংলাপ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান। তিনি ইউনেসকো কর্তৃক টাঙ্গাইল তাঁতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে টাঙ্গাইল তাঁতের ঐতিহাসিক উৎস অনুসন্ধান, বুনন কৌশলের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাম্প্রতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে প্রান্তিক তাঁতিদের আর্থসামাজিক সংকট এবং আধুনিক বিপণন কৌশলের মাধ্যমে এই শিল্পের পুনরুত্থানের সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন।
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনসিইউর চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জাদুঘর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। সংলাপে উঠে আসা সুপারিশগুলো সন্নিবেশিত আকারে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সংস্থায় পাঠানোর জন্য আয়োজকদের অনুরোধ করেন তিনি।
বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন সংশ্লিষ্টদের এক প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ দেন।
তিনি বলেন, এর ফলে যার যার জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন সহজ হবে।
সংলাপে অংশ নেন তাঁতশিল্পী সমিতির নেতা রঘুনাথ বসাক এবং নীলকমল বসাক, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের মনিরা এমদাদ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের লুভা নাহিদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমেদ ছিদ্দিকী, কপিরাইট রেজিস্ট্রার এস এম আরশাদ ইমাম, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কিপার আসমা ফেরদৌসি, ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রোগ্রাম হেড (কালচার) কিযী তাহনিন, হেরিটেজ টেক্সটাইল গবেষক, বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সদস্য শেখ সাইফুর রহমানসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া পররাষ্ট্র, শিল্প, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।