
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিতু মণ্ডলকে (১৪) বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মিলন মণ্ডলকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামির করা আপিল ও জেল আপিলের শুনানি নিয়ে এ রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণা করেন দ্বৈত বেঞ্চের বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও শেখ রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম গ্রামের নির্মল মণ্ডলের মেয়ে নিতু। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী মিলন মণ্ডল (২২) প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে নিতু স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে মিলন তার পিছু নেন। বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি রাস্তায় নিতুকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ পাশের একটি নালায় ফেলে দেন আসামি। পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী তাঁকে ধরে পুলিশে দেন। ঘটনার দিন রাতে নিতুর বাবা নির্মল মণ্ডল বাদী হয়ে তৎকালীন কালকিনি থানায় মিলনের নামে হত্যা মামলাটি করেন। এই মামলায় ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট মাদারীপুর আদালত মিলনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামি আপিল ও জেল আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ এবং আসামির আপিল ও জেল আপিল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বলেন, মামলার একমাত্র আসামি মিলনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আসামি কারাগারে আছেন। বিচারিক আদালতের রায়ের পর থেকে আসামি কনডেমড সেলে আছেন।