
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে আজ সোমবার এমন অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর মো.মিজানুল ইসলাম।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় আজ জবানবন্দির দিন ধার্য ছিল। জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এর মধ্যে দুপুরের খাবারের বিরতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
দুপুরের খাওয়ার বিরতিতে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়া থেকে নামিয়ে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কামরুল ইসলাম দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘শুনলাম, উনি (কামরুল ইসলাম) রক্ষীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন এবং এটা আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই। উনি কেন করেন এটা, আল্লাহই ভালো জানেন।’
ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, আগেও তাঁরা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যাঁরা কামরুল ইসলামকে আনা–নেওয়া করেন, প্রায়ই উনি তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আগেও তাঁদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আজ সাক্ষ্য গ্রহণের সময় সাক্ষী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তখন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করেন, এই নেতারা কারা। এই প্রশ্ন অবৈধ দাবি করে আসামি কামরুল ইসলাম চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন, আপত্তি উত্থাপন করেন এবং বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্তে, শান্তশিষ্টভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, সে সময় ট্রাইব্যুনালে তাঁরা বলেন, প্রসিকিউশনের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা। প্রমাণের জন্য যে প্রশ্ন করা দরকার, সেটাই প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বৈধভাবে করেছেন।
কামরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তিনি ৪০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী উল্লেখ করে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তবে প্রসিকিউটরের প্রশ্নে কোনো অবৈধতা ছিল না। তিনি বৈধ প্রশ্ন করেছেন। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের বক্তব্য সমর্থন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁকে সেই প্রশ্ন করার অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।