দেশের সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং তাঁদের এজলাস ও বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা রয়েছে, তা জানাতে কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
রাজশাহীতে এক বিচারকের বাড়িতে ঢুকে তাঁর ছেলে হত্যার প্রেক্ষাপটে রিট আবেদন এবং আদালতের আদেশটি এসেছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, উচ্চ আদালতের বিচারপতিসহ অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং তাঁদের এজলাস ও বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত বছরের ২৮ নভেম্বরের এ–সংক্রান্ত সার্কুলারের (সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দেওয়া) নির্দেশনার বাস্তবায়ন চেয়ে আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান চলতি সপ্তাহে রিট আবেদনটি করেন।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. ওমর ফারুক ও মোকাদ্দাস আহমদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।
পরে আইনজীবী ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, উচ্চ আদালতের বিচারপতিসহ সারা দেশের অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারক, তাঁদের এজলাস ও বাসভবন এবং আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমানে কী ব্যবস্থা রয়েছে, তা জানাতে কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।’
আদালত, আদালতের বিচারক ও আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই রুল আদালত দিয়েছে বলে এই আইনজীবী জানান। স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি ও র্যাবের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
১৩ নভেম্বর রাজশাহীতে জেলা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহমানের বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাতে তাঁর ১৭ বছরের ছেলেকে হত্যা করা হয়। তাঁর স্ত্রীও আহত হন।
এরপর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে কলমবিরতি কর্মসূচি ডেকেছিল। পরে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।