প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অবস্থান কর্মসূচি। ২৫ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে
প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অবস্থান কর্মসূচি। ২৫ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে

প্রশাসন, পুলিশে নিয়মিত পদোন্নতি, যোগ্যতা থাকলেও হয় না শিক্ষা ক্যাডারে

৩৬তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন আট বছরের বেশি সময় আগে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। এখন তাঁরা চাকরির নবম বছরে রয়েছেন। কিন্তু চাকরির শুরুর পদ, অর্থাৎ প্রভাষক পদেই রয়ে গেছেন তাঁরা। এ সময়ে তাঁদের কোনো পদোন্নতি হয়নি।

শুধু ৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তারাই নন, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পদে এভাবেই বছরের পর বছর একই পদে চাকরি করার নজির রয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জনের পরও পদোন্নতির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। এতে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। পদোন্নতির এই দীর্ঘসূত্রতা কাটানোর দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। এর মধ্যে প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তারা দ্রুত পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।

শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা বা পদমর্যাদা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যোগ্য কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতি এবং শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা ও জনবল ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যোগ্য কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতি এবং শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা ও জনবল ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। কারণ, যাঁরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন, তাঁদের পেশাগত অগ্রগতির পথ দীর্ঘদিন আটকে থাকলে তা শিক্ষা খাতের জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) ২৬টি ক্যাডারে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব ক্যাডারের মধ্যে পদোন্নতি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, একই সময়ে চাকরিতে যোগ দিয়েও প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর ও কৃষিসহ কয়েকটি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তুলনায় তাঁদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। অন্যান্য কয়েকটি ক্যাডারে পর্যাপ্ত পদ না থাকলেও সংখ্যাতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের ক্ষেত্রে এ ধরনের পদ সৃষ্টির উদ্যোগ প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার কথা বলে আটকে দেওয়া হচ্ছে।

যোগ্যতা আছে, পদোন্নতি নেই

সংখ্যার দিক থেকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অন্যতম বড় ক্যাডার। বর্তমানে এই ক্যাডারে মোট পদ রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার। এর মধ্যে হাজারের বেশি পদ শূন্য। এই ক্যাডারের অধিকাংশ কর্মকর্তা সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম), পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মূল পদ হলো অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক।

বর্তমানে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জটিলতা তীব্র হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সাধারণত প্রভাষক পদে ধারাবাহিক ও সন্তোষজনকভাবে পাঁচ বছর চাকরি পূর্ণ করা, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক থাকা এবং বনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়।

মাউশির সূত্র বলছে, নতুনদের মধ্যে ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের অধিকাংশ প্রভাষক এসব যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁরা নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, এখনো সেই গ্রেডেই রয়েছেন। অর্থাৎ চাকরির অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পরও পরবর্তী পদে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, পদোন্নতির নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনের পরও যদি বছরের পর বছর একই পদে থাকতে হয়, তাহলে পদোন্নতির শর্ত পূরণের মূল্য কী? পদোন্নতি শুধু বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি একজন কর্মকর্তার পেশাগত অগ্রগতি, দায়িত্বের স্বীকৃতি ও কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ। ফলে যোগ্যতা অর্জনের পরও দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় কর্মকর্তাদের মনোবল ও পেশাগত প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলে কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডে বেতন পাবেন। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, ষষ্ঠ গ্রেডে শুরুর মূল বেতন হবে ৭১ হাজার টাকা, যা ২০১৫ সালের পুরোনো বেতন কাঠামোয় ছিল ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, মুঠোফোন ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতাও প্রাপ্য হবে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে যখন ভাতাও কার্যকর হবে, তখন এ পদের একজন কর্মকর্তার মোট বেতন দাঁড়ায় লাখ টাকার বেশি।

শূন্য পদ ৯৪৯, পদোন্নতিযোগ্য ১ হাজার ৬৮৪ জন

মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সহকারী অধ্যাপকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪ হাজার ৯৮০টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৩১ জন। অর্থাৎ সহকারী অধ্যাপকের ৯৪৯টি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন এমন কর্মকর্তার সংখ্যা ১ হাজার ৬৮৪ জন। অর্থাৎ শূন্য পদের চেয়ে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার সংখ্যা ৭৩৫ জন বেশি। এই হিসাবই পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। কারণ, শিক্ষা ক্যাডারে সাধারণত পদোন্নতি হয় শূন্য পদের বিপরীতে।

শূন্য পদের সংখ্যা পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তার তুলনায় কম হওয়ায় মাউশি সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করেও পদোন্নতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এককভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

মাউশির সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেও সব কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে আপাতত শূন্য থাকা ৯৪৯টি পদে পদোন্নতি দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলে মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের দাবি, শুধু শূন্য পদের বিপরীতে নয়, যোগ্যতা অর্জনকারী সবাইকে পদোন্নতির আওতায় আনতে হবে।

পদোন্নতিতে পার্থক্য

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সাধারণত শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ফলে একই বিসিএসের কর্মকর্তাদের মধ্যেও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যায়। কোনো কোনো বিষয়ে পদ শূন্য থাকায় পদোন্নতি হলেও অন্য বিষয়ে পদ না থাকায় যোগ্য কর্মকর্তাদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ সমস্যা কমাতে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি শুরু হয়েছে।

কিন্তু ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির উদ্যোগের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি ও পদোন্নতির নীতিমালা বাস্তবায়নের জটিলতা দূর না হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ, পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী কর্মকর্তাদের সংখ্যা ও শূন্য পদের মধ্যে ব্যবধান থাকলে শুধু ব্যাচ ধরে প্রক্রিয়া পরিচালনা করলেই সবার পদোন্নতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

৩৬তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রশাসনসহ অন্য কয়েকটি ক্যাডারে তাঁদের পরের এক বা একাধিক বিসিএসের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হলেও শিক্ষা ক্যাডারে তাঁরা এখনো পদোন্নতি পাননি। এ ক্ষেত্রে ৩৮তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (ষষ্ঠ গ্রেড) পদে পদোন্নতির বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছেন তাঁরা।

তবে মাউশির সূত্র বলছে, সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে এখন বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা চলমান রয়েছে। ৩৭তম বিসিএস পর্যন্ত কর্মকর্তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও সভা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয়েছিল।

উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ সীমিত

শুধু প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নয়, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জটিলতা রয়েছে। ফলে ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পদোন্নতির অপেক্ষা দীর্ঘ হয়।

প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র ও করসহ বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের গ্রেড-১ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই বললেই চলে। আগে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তৃতীয় গ্রেড পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, তাঁরা সর্বোচ্চ চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত যেতে পারেন।

শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ হিসেবে বিবেচিত মাউশির মহাপরিচালকের (ডিজি) পদটি গ্রেড-১ করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সাধারণভাবে চতুর্থ গ্রেডের ওপরে যেতে না পারায় গ্রেড-৩ ও গ্রেড-২ পেরিয়ে গ্রেড-১-এ যাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। বর্তমান মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল চতুর্থ গ্রেডে বেতন পান, যা কলেজের অনেক সহযোগী অধ্যাপকও পান। বিচ্ছিন্নভাবে মাউশির কোনো কোনো মহাপরিচালক গ্রেড-১-এ যেতে পারলেও অধিকাংশের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না।

দেশের ৯৫টি বড় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের পদ গ্রেড-৩-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে এসব উচ্চতর পদে পদোন্নতির জন্য সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) মাধ্যমে যেতে হবে। আবার গ্রেড-৩-এ এত কম পদ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যেও আপত্তি ছিল। ফলে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা চান অধ্যাপকেরা যাতে সহজেই গ্রেড-৩–এ যেতে পারেন সেই ব্যবস্থা যেন করা হয়।

এ ক্ষেত্রে তাঁরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ টেনে বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট অধ্যাপকের ২৫ শতাংশ পদোন্নতি পেয়ে গ্রেড-১-এ যাওয়ার সুযোগ পান।

পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন

দীর্ঘদিনের পদোন্নতিবঞ্চনা ও পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। ২৫ অক্টোবর মাউশির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। কর্মসূচি থেকে সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি দেওয়া এবং অধ্যাপক পদকে গ্রেড-৩-এ উন্নীত করার দাবিও জানানো হয়। যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকার পরিস্থিতির অবসান চান তাঁরা।

জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে। বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভাও চলমান রয়েছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুতই এ পদে পদোন্নতি হবে। অন্যান্য পদেও যাতে নিয়মিত পদোন্নতি হয়, সেই চেষ্টাও চলছে।

তবে কর্মকর্তাদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলমান থাকার আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে। কারণ, তাঁদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন।

পদোন্নতির দাবি জানিয়ে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা আক্ষেপ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা (শিক্ষক হিসেবে) সব ক্যাডার তৈরি করি, কিন্তু আমাদের পদোন্নতি নিয়েই এত সমস্যা।’