
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে নারী ও শিশুদের জন্য সুখবর তেমন একটা নেই। নারী ও শিশুরা ভাতাভোগী, উপকারভোগী হিসেবেই বেশি চিহ্নিত হয়েছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জেন্ডার সমতায় বিভিন্ন কর্মকৌশলের কথা উল্লেখ আছে।
আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় নারী ও শিশুদের উন্নয়নে অনেক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কোন কোন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তেমন কিছু কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহের মতো বিষয়গুলো প্রতিরোধে বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। ঘুরেফিরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চলমান কার্যক্রমগুলোকেই শুধু তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৯০ কোটি টাকা ছিল। এবার নারী উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম ও অগ্রাধিকার রয়েছে, এমন ৪৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আওতাভুক্ত করে ‘জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন ২০২৩-২৪’ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেন্ডার সম্পৃক্ত বরাদ্দের মোট পরিমাণ ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন, নারী ও শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিতে ২০২৩-২৪ সাল থেকে ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য ৬৪টি জেলায় শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন, কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্যানিটারি টাওয়েল প্রস্তুতকরণ ও বিতরণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিশোরীদের ক্ষমতায়নে স্কুলগামী ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হবে। নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো, শেখ হাসিনা নারীকল্যাণ ডরমিটরি ও কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। অবসরকালীন আপনালয় স্থাপন, ৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা, গ্রামীণ এলাকার কওমি মাদ্রাসার শিশুদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ‘নিরাপদ ইন্টারনেট-নিরাপদ শিশু কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন এবং ৬৪ জেলায় কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল ও ব্যায়ামাগার বানানো হবে।
বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে মোট ১ কোটি ৪৯ লাখের বেশি কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। গত এক যুগে ১০ লাখ নারী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে—এ তথ্য উল্লেখ করা হলেও নির্যাতনের শিকার অভিবাসী নারী শ্রমিকদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। বাজেট বক্তৃতায় সব বিদ্যালয়ে মেয়েশিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হলেও এখন পর্যন্ত কতটি নির্মিত হয়েছে, সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ১ হাজার ৫৩০ জন কর্মজীবী নারীর জন্য স্বল্প মূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় যে দু–একটা সুখবর বা নারীর জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত বঞ্চিত নারীদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার জন্য সিএমএসএমই স্টার্টআপ ও নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত শিথিল করে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারী, শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য মালামাল উদ্ধার ও নিরাপদস্থানে স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে ৬০টি মাল্টিপারপাস এক্সেসিবল রেসকিউ বোট প্রস্তুত করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় নারী ও শিশু উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি অধ্যায় রাখা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিকৌশল গ্রহণ ও তার কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে বিশ্ব ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স প্রতিবেদন ২০২২–এ ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৭১তম অবস্থানে উঠে এসেছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সারা বিশ্বে নবম।
বাজেট বক্তৃতায় নারী ও শিশুর জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে, সে প্রসঙ্গে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ২০১৬ সালের ৩৬ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮ সালে ১ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ৪১ জন, ২০২২ সালে তা ২২ জনে নেমে এসেছে। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৬৮ জন থেকে কমে ২০২১ সালে ২৮ জন হয়েছে।
মাতৃমৃত্যুর হার ২০০৫ সালের ৩৪৮ জন (প্রতি লাখ জীবিত জন্মে) থেকে কমে ১৬৮ জন হয়েছে। প্রসবকালীন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতির হার ২০০৪ সালের ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে ১৪ হাজার ৩৮৪ টি। প্রতিটি ক্লিনিকে দৈনিক গড়ে ৪০ জন সেবা নেয়, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। প্রায় ৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবসেবা পাচ্ছেন নারীরা। ইউনিয়ন পর্যায়ে দক্ষ ধাত্রী ও মিডওয়াইফদের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। ৫০০টি পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রকে মডেল কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে, করোনা সংকটকালে ‘ভালনারেবল ডেভেলপমেন্ট’সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু কার্যক্রম সামনেও অব্যাহত রাখা হবে। ৬৪টি জেলার ৪৮৮টি উপজেলার মাধ্যমে ২ দশমিক ২৭ লাখ নারীকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের (১৬-৪৫ বছর) দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিলের অর্থে দেশের ৬৪টি জেলা ও ২৮টি উপজেলায় স্বকর্ম ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমেও বেকার ও উদ্যোগী নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সাড়ে ১৪ হাজার উদ্যোক্তা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘লালসবুজ ডটকম’–এ নিবন্ধন ও পণ্য আপলোড করে বিক্রি করছেন। দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও সেবা বিপণনের জন্য জয়িতা ফাউন্ডেশনের আওতায় ঢাকাসহ সব বিভাগীয় সদরে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব বিপণন অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
হাওরের নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩৫০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও দুস্থ নারীদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৭ হাজার এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ৬৫০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
৮টি বিভাগীয় শহরে ৮টি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের কাজ চলমান, উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহে মহিলা পলিটেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের কাজ চলছে। ‘প্রোগ্রেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২৫০ জন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় নারীদের কোটা ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
নীতি ও কর্মকৌশল: বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সংস্থার জন্য ‘অপারেশনাল স্ট্র্যাটেজি টু প্রিভেন্ট অ্যান্ড জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স অ্যান্ড জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন ইন ওয়ার্কপ্লেস’ শীর্ষক কৌশলপত্র প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের জেন্ডারভিত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য জেন্ডার রোডম্যাপ ২০২০-৩০ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় নারীদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ‘জেন্ডার রেসপনসিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন—জিসিএ’ শীর্ষক প্রকল্পে নারীদের ‘ক্লাইমেট এজেন্ট’ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ায় পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, সহনশীল জীবিকায়ন ও পানীয় জলের সমস্যার সমাধান বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
শিশুদের জন্য যা আছে: বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা তথ্য বলছে, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ১২৫টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ হাজার ৭৩০ জনকে দিবাকালীন সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৬টি জেলা শাখায় আধুনিক কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশু যত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং শিশুদের সাঁতার সুবিধা দিতে প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শিশু একাডেমিতে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় শিশুদের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটছে।
বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোর–কিশোরীদের জন্য ২০১৭-২০৩০ মেয়াদে জাতীয় কৈশোর স্বাস্থ্য কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এ কৌশলপত্র বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে ১ হাজার ১০৩টি কৈশোরবান্ধব কর্নার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবছর ২০০টি এ ধরনের কর্নার করা হবে। ৫৯২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ এবং জেলা শহরের মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রকে মা ও শিশু হাসপাতালে রূপান্তর করা হচ্ছে।
পাঁচ বছরের কম বয়সী অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসায় ৪৮০টি উপজেলায় ফ্যাসিলিটি আইএমসিআই ও পুষ্টি কর্নার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কমিউনিটি পর্যায়ে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসায় ৪২৫টি নতুন উপজেলায় কমিউনিটি আইএমসিআই বাড়ানো হয়েছে। নবজাতকের নাভিতে সংক্রমণ প্রতিরোধে ৭ দশমিক ১ শতাংশ ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহার করার কার্যক্রম ২০টি জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কম জন্ম ওজন বা অপরিণত জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য ক্যাঙারু মাদার কেয়ার সেবা কার্যক্রম ১৪২টি স্বাস্থ্য স্থাপনায় চলছে। এর বাইরে নতুন ২৫টি স্বাস্থ্য স্থাপনায় এ সেবা চালু করা করা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত এক লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক ও কারিগরি শিক্ষা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান। শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কর্মরত শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৮০০ জন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ৮টি খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিশুদের চলাচলে র্যাম্প তৈরি হচ্ছে। এই শিশুদের শিক্ষা উপকরণ কেনা ও বিতরণে অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাসিক শিক্ষা বৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৫০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৫০ টাকা করা হয়েছে।
ভাতা বরাদ্দ: বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৫৪ হাজার জন থেকে বাড়িয়ে ১৩ লাখ ৪ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে।
বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫৭ দশমিক শূন্য ১ লাখ থেকে ৫৮ দশমিক শূন্য ১ লাখজনে এবং মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। তবে প্রবীণ নারীর তথ্য আলাদা করে উল্লেখ নেই। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৪ দশমিক ৭৫ লাখ থেকে ২৫ দশমিক ৭৫ লাখ জনে এবং মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫০ টাকা করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩ দশমিক ৬৫ লাখ থেকে ২৯ লাখ জনে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী ডেটাবেজের আওতাভুক্ত সবাইকে এ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধী নারীর সংখ্যা জানার কোনো উপায় নেই।
হিজড়া ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮১৫ জন থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ৮৮০ জন করা হয়েছে এবং বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ জন থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬২০ জনে উন্নীত করা হয়েছে।