
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভেতরে পুলিশ পরিদর্শককে থাপ্পড় মারা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষক দলের নেতা মজিবর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শহরের প্রধান চারটি প্রবেশপথসহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছেন জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। এতে দিনাজপুরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে মজিবর রহমানকে মারধর করা হয়েছে। তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবীকে অপসারণ, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ পুরো ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
মজিবর রহমান জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। এ ছাড়া তিনি বালুয়াডাঙ্গা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এবং একটি ইজিবাইক গ্যারেজের মালিক। এ ঘটনায় দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গতকাল সোমবার তাঁকে সব ধরনের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার রাত সাড়ে ৯টায় একটি হত্যা মামলার নথিপত্র সংগ্রহ ও আগের তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে কোতোয়ালি থানায় যান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা নওয়াবুর রহমান। তিনি তখন সিভিল পোশাকে ছিলেন। একই সময়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সেখানে যান মজিবর রহমান। ওসি থানায় না থাকায় ওসির কক্ষের সামনে নওয়াবুরের কাছে তাঁর অবস্থান জানতে চান মজিবর। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়। পরে ওই রাতেই নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে মজিবর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন মজিবর রহমান।
এ ঘটনার পর আজ সকাল ১০টার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বালুয়াডাঙ্গা, সরকারি কলেজ মোড়, সিএন্ডবি মোড় ও ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের ওপর বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়ে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘মজিবর রহমান যে অপরাধ করেছেন শাস্তি হিসেবে যথাযথ আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আমাদের শ্রমিক সংগঠনের সদস্য। থানা হেফাজতে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জঙ্গি কায়দায়। তাঁকে বেধড়ক পেটানোর কারণে সে হাঁটতেও পারছিল না। পুলিশ এভাবে শারীরিক নির্যাতন করতে পারেন না। আমরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তিসহ চারটি দাবি জানিয়ে সড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করছি। দাবি না মানা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
এ বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম বলেন, থানা হেফাজতে কাউকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। থানায় তো মজিবর রহমানের স্বজন ও রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমিক ইউনিয়নের অনেকেই ছিলেন। তারপরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
ওসি মোহাম্মদ নূরনবীর অপসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ওসি যদি দিনাজপুরের মানুষকে প্রত্যাশিত সেবা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিষয়টি আমলে নেবে।