
ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা ভবন চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও পদ্ধতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনে আয়োজিত এক পরামর্শমূলক সেমিনারে রিয়াজুল ইসলাম এ কথা জানান। ‘বাংলাদেশের নগরাঞ্চলে ভূমিকম্প সহনশীলতা: বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা, সুশাসন ও বাস্তবায়ন রূপরেখা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বুয়েট-৮৮ ক্লাব। এতে সহযোগিতা করে ডিএনসিসি ও বিএসআরএম।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ঝুঁকি কমাতে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মেহেদী আনসারী। তিনি ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা, কার্যকর সমন্বয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিধিবিধানের প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নগরাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য ফখরুজ জামান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের একটি প্ল্যাটফর্মের ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেন্সর স্থাপনের মাধ্যমে ভূমিকম্পের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা পাওয়া এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য সময় নিরূপণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
স্বাগত বক্তব্যে বুয়েট-৮৮ ক্লাবের সভাপতি প্রকৌশলী রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তাঁদের ক্লাব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে আসছে। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত সমাধান খুঁজে বের করা।
সেমিনারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, রাজউক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ভূমিকম্পের প্রস্তুতি, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম, ভবনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।
আলোচকেরা দুর্যোগ মোকাবিলায় তথ্য বিনিময়, সমন্বিত জরুরি পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন।