জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় এই যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে ছাত্রদল। পরে তাঁকে হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে তোলা ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় এই যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে ছাত্রদল। পরে তাঁকে হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে তোলা ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রলীগ সন্দেহে ‘রিকশাচালককে’ মারধরের পর পুলিশে দিল ছাত্রদল

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে ‘সম্পৃক্ততার অভিযোগে’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন অনুষদের চত্বর ও ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এক যুবক রিকশায় বসে ছাত্রদলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ধাওয়া দিয়ে তাঁকে ধরে ফেলেন এবং ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ছাত্রদলের দাবি, আটক হওয়া ওই যুবকের বাড়ি বরগুনায়। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর মুঠোফোনে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ওই ব্যক্তি নিজেকে রিকশাচালক বলে দাবি করেছেন।

মারধরের শিকার ওই যুবককে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রদল এক ব্যক্তিকে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। আটকের পর তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও বিস্তারিত জানা যাবে।’

কর্মসূচি চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরও নিষিদ্ধ সংগঠনের যে অপতৎপরতা আমরা দেখছি, এর বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অবস্থান সব সময় সুস্পষ্ট।’

নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ

এদিকে ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরের পর ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে এবং দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে, প্রধান ফটক ও বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় কয়েক দফায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলের দিকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।