অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টের স্ক্রিনশট
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টের স্ক্রিনশট

ফারজানা রুপা–মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান অ্যামনেস্টির

সাংবাদিকতার কারণে ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হকের (মোজাম্মেল বাবু) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

গতকাল সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া শাখার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানানো হয়।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক গ্রেপ্তার আছেন।

অ্যামনেস্টির পোস্টে বলা হয়, ফারজানা রুপা ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক। মোজাম্মেল হক ছিলেন চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে পোস্টে বলা হয়, গত ৭ মার্চ এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ ২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন নিয়ে তাঁদের করা প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অ্যামনেস্টির পোস্টে বলা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রসিকিউটর অভিযোগ করেছেন, টেলিভিশন চ্যানেলটি একটি ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রতিবেদন প্রচার করেছিল। প্রতিবেদনে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে সেখানে কেউ হতাহত হননি। প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই এমন প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

অ্যামনেস্টি বলেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় এমন তথ্যও রয়েছে, যা কারও কাছে আপত্তিকর, হতবাক করার মতো বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। অধিকারকে সম্মান করে—এমন একটি সমাজে সুস্থ জন–আলোচনার জন্য এই অধিকারকে সম্মান করা জরুরি।

পোস্টে বলা হয়, সাংবাদিকদের এমন মতামতের জন্য লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়, যা কারও কাছে অপছন্দনীয়। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হলেও তাঁদের নিশানা করা উচিত নয়।

অ্যামনেস্টি বলেছে, সাংবাদিকতার কারণে আনা এসব অভিযোগ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক দায়বদ্ধতাও রক্ষা করতে হবে।