ছবি: কোলাজ
ছবি: কোলাজ

প্রথম আলো এক্সপ্লেইনার

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সম্পর্কিত বিধান কতটুকু ফিরল, কী রইল বাকি

অবাধ ও পক্ষপাতহীন নির্বাচন নিশ্চিতের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তিন দশক আগে সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। তবে ১৫ বছর আগে সর্বোচ্চ আদালতের এক রায় এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে বিলোপ করা হয়েছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় এই সরকারব্যবস্থা। এখন সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে আবার বহাল হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ ও পঞ্চদশ সংশোধনী। এই সরকারব্যবস্থা যুক্ত করে ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ। ২০১১ সালে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংবলিত ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন বাতিল করেন। সেই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আবেদন হয়েছিল। উদ্ভূত আপিল ও এ-সংক্রান্ত আবেদনের ওপর গত ২০ নভেম্বর রায় দেন আপিল বিভাগ। আগের রায় (১৫ বছর আগে দেওয়া) বাতিল করে এ-সংক্রান্ত (তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা–সম্পর্কিত) বিধান পুনরুজ্জীবিত করে এ রায় দেওয়া হয়।

অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের পাঁচটি ধারা বাতিল করে হাইকোর্ট রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল খারিজ করে ৯ জুলাই রায় দেন আপিল বিভাগ।

এ প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সম্পর্কিত বিধান কি সম্পূর্ণ পুনর্বহাল হলো, নাকি কিছু ঘাটতি থেকে গেল, চলুন খুঁজি তার উত্তর।

তত্ত্বাবধায়ক–সম্পর্কিত মূল বিধান কি ফিরেছে?

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ এই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা রিট আবেদন হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের পাঁচটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। এর বিরুদ্ধে করা তিনটি আপিল ৯ জুলাই খারিজ করেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।

তবে সর্বোচ্চ আদালত এ বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ দেন কি না, তার জন্য পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় আছেন আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, সংবিধানের তৃতীয় তফসিল সংশোধনে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৫৩ ধারাসহ আটটি ধারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত, এর মধ্যে ছয়টি বিধানে পরিবর্তন আসেনি।

পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে সংবিধানে যে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়, হাইকোর্টের রায়ে তার পাঁচটি ধারার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এসেছে। এর মধ্যে দুটি ধারা (২০ ও ২১) তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সম্পর্কিত। পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ধারার মাধ্যমে সংবিধানের ৫৮(ক) অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ২১ ধারার মাধ্যমে সংবিধানের ২(ক) পরিচ্ছেদে-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপ করা হয়েছিল। এই দুটি ধারা বিলোপ করাকে আদালতের রায়ে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষিত হয়েছে। অর্থাৎ ধারা দুটি সংবিধানে ফেরার পথ খুলেছে।

ত্রয়োদশ সংশোধনী আইনের ২ ও ৩ ধারার মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮(ক), ৫৮(খ), ৫৮(গ), ৫৮(ঘ) ও ৫৮(ঙ) অনুচ্ছেদ নতুন সন্নিবেশিত করার পাশাপাশি কয়েকটি অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন ও সংশোধন আনা হয়েছিল। আইনের ২ ধারার মাধ্যমে নতুন ৫৮(ক) অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়; আর ৩ ধারার মাধ্যমে নতুন ২(ক) পরিচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়। এই পরিচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে বলা ছিল। এ-সংক্রান্ত ৫৮(ক) অনুচ্ছেদে পরিচ্ছেদের প্রয়োগ; ৫৮(খ) অনুচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার; ৫৮(গ) অনুচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, উপদেষ্টাদের নিয়োগ ইত্যাদি; ৫৮(ঘ) অনুচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যাবলি এবং ৫৮(ঙ) অনুচ্ছেদে সংবিধানের কতিপয় বিধানের অকার্যকারিতা সম্পর্কে বলা ছিল।

ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে মামলায় গত বছরের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ রায় দেন। রায়ে সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইনের ধারা ৩ দিয়ে সন্নিবেশিত হওয়া সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছেদ ‘২(ক) পরিচ্ছেদ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ সম্পর্কিত বিধানাবলি এই রায়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা হলো বলে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে বলা হয়, এরূপ পুনরুজ্জীবন ‘পরিচ্ছেদ ২(ক)’-এ উল্লেখিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত বিধানাবলির স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল নিশ্চিত করে। তবে পুনরুজ্জীবিত অনুচ্ছেদ ৫৮খ(১) এবং অনুচ্ছেদ ৫৮গ(২)-এর বিধানের প্রয়োগ সাপেক্ষে তা কার্যকর হবে। পুনর্বহাল ও পুনরুজ্জীবিত ‘পরিচ্ছেদ ২(ক)’-এ উল্লেখিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলি কেবল ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে কার্যকর হবে।

এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সম্পর্কিত মূল বিধানগুলো ফিরছে বলে মনে করেন আইনজীবীরা। তাদের মতে, পুনরুজ্জীবিত বিধান চতুর্দশ অর্থাৎ আগামী সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হতে পারে।

সর্বাধিনায়কতা ও মেয়াদ-সম্পর্কিত আগের বিধান কি ফিরেছে?

পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২২ ধারার মাধ্যমে সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন ও প্রতিস্থাপন করা হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগগুলোর সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত হবে এবং আইনের দ্বারা তার প্রয়োগ নিয়ন্ত্রিত হবে উল্লেখ করা হয়।

তার আগে ত্রয়োদশ সংশোধনীর ৬১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ছিল, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগগুলোর সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত হবে এবং আইন দিয়ে তার প্রয়োগ নিয়ন্ত্রিত হবে এবং যে মেয়াদে ৫৮(খ) অনুচ্ছেদের অধীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে, সে মেয়াদে ওই আইন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে।

পঞ্চদশ সংশোধনীতে ‘যে মেয়াদে ৫৮(খ) অনুচ্ছেদের অধীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে, সে মেয়াদে ওই আইন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে’ অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়, যা সংবিধানে রয়ে গেছে।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কি উপদেষ্টা হতে পারবেন?

পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৩ ধারার মাধ্যমে সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব (অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন ব্যতীত) পালন করে থাকলে ওই পদ হতে অবসর গ্রহণ বা অপসারিত হওয়ার পর বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় পদ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের অযোগ্য হবেন, যা এখনো সংবিধানে রয়েছে।

এরে আগে ত্রয়োদশ সংশোধনীর ৯৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারকদের বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় পদ অথবা প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টার পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে বহাল হবেন না বলে উল্লেখ ছিল।

তত্ত্বাবধায়ক কি সংসদ ভাঙার পর, নির্বাচন কি তার আগে?

পঞ্চদশ সংশোধনীর আইনের ৪৪ ধারার মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান–সম্পর্কিত সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় পরিবর্তন আনা হয়। এর ভাষ্য, মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হবে, যা রয়ে গেছে।

আগের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ১২৩(৩) অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে অথবা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ সংশোধনীর ৫৮(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিধান ছিল।

সংবিধান সংশোধনসহ যে কোনো পরিবর্তন হয় সংসদে

পারিশ্রমিক–সম্পর্কিত শব্দগুলো কি ফিরল?

সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদে কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি বিষয়ে বলা আছে। ত্রয়োদশ সংশোধনীর ১৪৭ অনুচ্ছেদের (৪) দফায় প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী উল্লেখ ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৯ ধারার মাধ্যমে ১৪৭ অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী উল্লেখ করা হয়, যা এখনো রয়ে গেছে।

সংজ্ঞা–সম্পর্কিত বিধান কি ফিরেছে?

পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৫১ ধারার মাধ্যমে ১৫২ অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনা হয়। এর ভাষ্য, ‘প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা’ অভিব্যক্তির সংজ্ঞা বিলুপ্ত হবে, যা রয়ে গেছে। তবে ত্রয়োদশ সংশোধনীর ‘উপদেষ্টা অর্থ ৫৮(গ) অনুচ্ছেদের অধীন ওই পদে নিযুক্ত ব্যক্তি’ এবং ‘প্রধান উপদেষ্টা অর্থ অভিব্যক্তির ৫৮(গ) অনুচ্ছেদের অধীন ওই পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি’ সন্নিবেশিত করা হয়েছিল।

তৃতীয় তফসিলে শপথের কী হলো?

সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে পদের শপথ বিষয়ে বলা আছে। পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৫৩ ধারার মাধ্যমে তৃতীয় তফসিলে সংশোধনী আনা হয়। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তৃতীয় তফসিলে ফরম ১(ক) এবং ২(ক) সন্নিবেশিত হয়েছিল, যা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৫৩ ধারার মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হয়। অর্থাৎ ফরম ১(ক) উল্লেখিত রাষ্ট্রপতি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন, সে ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি তাকে শপথ পাঠ করাবেন এবং ফরম ২(ক) এ উল্লিখিত প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন। পঞ্চদশ সংশোধন আইনে এটা বিলুপ্ত করা হয়, যা রয়ে গেছে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনে জড়িয়ে আছে সুপ্রিম কোর্ট

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার কী ফিরল, কী ফেরেনি?

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল–সংক্রান্ত রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন ও আপিল এবং পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলকারী সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের আটটি ধারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সম্পর্কিত। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা–সম্পর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিলের রায় বহাল রয়েছে। ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার; তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, উপদেষ্টাদের নিয়োগ ইত্যাদি এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যাবলি—মূল বিধানগুলো ফিরেছে।

সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আনা সংশোধনীসহ অপর ছয়টি বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়নি বলে জানান শরীফ ভূঁইয়া। তাঁর মতে, এর মধ্যে পঞ্চদশ সংশোধনীর যে বিধানের মাধ্যমে সংসদ ভেঙে যাওয়ার নব্বই দিন আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে, তা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, সংসদ ভেঙে যাওয়ার নব্বই দিন আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণের বিধানও ফেরেনি। পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের আরেকটি ধারা বিদ্যমান থাকায় বা বাতিল না হওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টা পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। কারণ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার লাভজনক পদ গ্রহণ না করা সম্পর্কিত ওই বিধানও বাতিল হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের সাংবিধানিক অস্তিত্ব ফিরে এলেও তাঁদের আগের শপথের ফরম, সংজ্ঞাগত অবস্থান ও পারিশ্রমিক–সম্পর্কিত ধারাগুলো তথা সাংবিধানিক সুরক্ষার বিধানগুলো ফেরেনি।

শরীফ ভূঁইয়া বলেন, তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় (৯ জুলাই দেওয়া) পেলে বুঝব ওইসব ব্যাপারে আদালতের কোনো পর্যবেক্ষণ আছে কি না। পর্যবেক্ষণে যদি না থাকে, সে ক্ষেত্রে বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সুরাহা হতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে।