ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত

ছিনতাইয়ের পর মুদিদোকানিকে হত্যা, ১০ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন, অন্যজন খালাস

রাজধানীর বংশালে আবদুল কুদ্দুস নামের এক মুদিদোকানিকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ওই আসামির নাম মাসুম মিয়া ওরফে কালু।

ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। এই মামলার অপর আসামি মো. ইউনুস মিয়াকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পীর আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাসেম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আবুল কাসেম বলেন, রায়ে মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি মো. ইউনুস মিয়াকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচার চলাকালে তিনি প্রায় ৮ বছর ৪ মাস কারাগারে ছিলেন। আর ঘটনার পর থেকেই কারাগারে আছেন মাসুম মিয়া।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মাসুম মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দিয়েছেন। অপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নভেম্বরের এক ভোরে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যাগে খাবার ও কাপড় নিয়ে রিকশায় করে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন মুদিদোকানি আবদুল কুদ্দুস। পথে বংশাল থানার সিদ্দিকবাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ব্যক্তি তাঁর রিকশার গতিরোধ করেন। তাঁরা কুদ্দুসের সঙ্গে থাকা মালামাল ও টাকা-পয়সা দিতে বলেন। কুদ্দুস তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা তাঁর বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান।

মামলার নথি থেকে আরও জানা গেছে, এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় কুদ্দুসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ১০ নভেম্বর মামলার তদন্ত শেষে বংশাল থানার উপপরিদর্শক মো. শহীদুল ইসলাম দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৭ সালের ৭ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।