সারা দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (শিশু হাসপাতাল)
সারা দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (শিশু হাসপাতাল)

হামের চিকিৎসা: খরচে দিশাহারা অভিভাবকেরা

‘আমার কলিজার টুকরো সন্তান ফালাক ঘুমিয়ে গেছে। আর ফিরবে না’—কুষ্টিয়া সদরের মুদিদোকানি মো. সাকিবুর রহমান গত সোমবার ফেসবুকে এভাবেই হামে ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছেন।

ফালাকের পুরো নাম মোহাম্মদ নোমান ফালাক। বয়স হয়েছিল মাত্র আট মাস। সে গত ২৫ মার্চ থেকে ভর্তি ছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মাঝে দুই দিন রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল। দুই দিনেই কুষ্টিয়া থেকে যাতায়াতসহ মোট খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। খরচের কথা চিন্তা করে তার বাবা ফালাককে আবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সাকিবুর রহমান (ফালাকের বাবা) সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ ওষুধ, স্যালাইন ও সিরিঞ্জ বাইরে থেকে কিনে দিতে হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে দুই দিনসহ ছেলের চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে এক লাখ টাকার বেশি। ১৯ দিন হাসপাতালে থাকায় নিজের দোকানও খুলতে পারেননি। ধারদেনা করা টাকা শোধ তো করতেই হবে।

রোগীর স্বজনেরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে সব ওষুধের সরবরাহ থাকে না। বাইরে থেকে কিনতে হয়। রোগের পরীক্ষা করাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিতে যাতায়াত খরচ যুক্ত হয়। হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের খাবার ও নানা কিছু কেনার পেছনে ব্যয় করতে হয়। সব মিলিয়ে স্বল্প আয় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য খরচ অনেক।

সাকিবুর রহমানের মতো হামে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকেরা খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় খরচ কম। তবে যে রোগীকে নিয়ে একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে হয়, সেই পরিবারের খরচ অনেক বেড়ে যায়। বেসরকারি হাসপাতালে খরচ আরও বেশি।

রোগীর স্বজনেরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে সব ওষুধের সরবরাহ থাকে না। বাইরে থেকে কিনতে হয়। রোগের পরীক্ষা করাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিতে যাতায়াত খরচ যুক্ত হয়। হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের খাবার ও নানা কিছু কেনার পেছনে ব্যয় করতে হয়। সব মিলিয়ে স্বল্প আয় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য খরচ অনেক।

তারপরও সন্তানকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরতে পারলে তবু সান্ত্বনা থাকত, অনেকেই সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশু

ফালাকের বাবা সাকিবুর রহমান বলছিলেন, ফালাককে রাজশাহী বা ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা বলেছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা; কিন্তু সে সামর্থ্য ছিল না তাঁর। আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ।’

হামের চিকিৎসায় গড় খরচ কত, সে বিষয়ে কোনো গবেষণার খোঁজ পাওয়া যায়নি। করোনা চিকিৎসার খরচ কত, তা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০২২ সালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছিল। টিআইবি বলেছিল, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে গড়ে সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে এই ব্যয়ের পরিমাণ গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা।

দেশে করোনা, ডেঙ্গু, হাম—একটার পর একটা রোগ লেগেই আছে। বর্তমানে হামের যে চিকিৎসা, তা জেলা শহর আর ঢাকার হাসপাতালের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), বিশেষ করে পিআইসিইউ সেবা লাগলে তখন পরিস্থিতি একটু বেশি জটিল হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) চিকিৎসক মঈনুল আহসান

হামে মৃত্যু কত

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৩২টি এবং উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যুর কথা জানিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ৩২ জনের মধ্যে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ জন।

১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৯ হাজার ১৬১ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে ৯ হাজার ৭৭২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) চিকিৎসক মঈনুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে করোনা, ডেঙ্গু, হাম—একটার পর একটা রোগ লেগেই আছে। বর্তমানে হামের যে চিকিৎসা, তা জেলা শহর আর ঢাকার হাসপাতালের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), বিশেষ করে পিআইসিইউ সেবা লাগলে তখন পরিস্থিতি একটু বেশি জটিল হচ্ছে। শিশুদের পিআইসিইউয়ের স্বল্পতা আছে। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ জনবল এবং যন্ত্রপাতিরও স্বল্পতা আছে—এটা স্বীকার করতেই হবে।

মঈনুল আহসান আরও বলেন, অনেক সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হয়তো হামের রোগীকে ঢাকায় আনার জন্য রেফার করছে না। কিন্তু অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে রোগীকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াচ্ছেন। এটা না করে রোগীকে যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে (পিআইসিইউ না লাগলে), সেখানে রেখেই চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হবে।

সরকারি হাসপাতালে সিরিঞ্জ, অক্সিজেন, ওষুধের সরবরাহ সংকটের বিষয়ে মঈনুল আহসান বলেন, এমন অভিযোগ করার সুযোগ নেই। তারপরও কোনো অভিভাবক এমন অভিযোগ করলে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানোর কথা বলেন তিনি।

খরচের চাপ সামলাতে না পেরে রেদোয়ানকে ভর্তি করা হয় শিশু হাসপাতালে। সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও এর দুই দিন পর পুরো শরীরে র‍্যাশ দেখা যায়। তখন হামের চিকিৎসায় ৫ এপ্রিল আবার ছেলেকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করেন সোহাগ ভূঁইয়া।

‘বুক ফাইটা যায়’

হামের চিকিৎসায় গড় খরচ কত, সে বিষয়ে কোনো গবেষণার খোঁজ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (শিশু হাসপাতাল) ভর্তি চার মাস বয়সী রেদোয়ান। শিশুটির বাবা গাজীপুরের সোহাগ ভূঁইয়া জানান, নিউমোনিয়া হলে ফেব্রুয়ারি মাসে ছেলেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাড়ি ফেরেন। তবে ছেলে আবার অসুস্থ হয়। এভাবে তিন দফায় শুধু ওই হাসপাতালেই ছেলেকে ভর্তি করতে হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৮ মার্চ থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিল তাঁর ছেলে। পিআইসিইউ (শিশু রোগীর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) লাগায় রাজধানীর বেসরকারি নিউ লাইফ হাসপাতাল ও পরে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিতে হয়।

খরচের চাপ সামলাতে না পেরে রেদোয়ানকে ভর্তি করা হয় শিশু হাসপাতালে। সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও এর দুই দিন পর পুরো শরীরে র‍্যাশ দেখা যায়। তখন হামের চিকিৎসায় ৫ এপ্রিল আবার ছেলেকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করেন সোহাগ ভূঁইয়া।

একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি। বুক ফাইটা যায় কারও কাছে বলতে পারি না, যারা একবার টাকা দিছে, তারা আর টাকা দিতেও চায় না।
গাড়িচালক সোহাগ ভূঁইয়া
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশু।ছবিটি সম্প্রতি তোলা

ছেলের চিকিৎসায় এ পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান গাড়িচালক সোহাগ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউতে সাত দিনে খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তাঁর কাজ করা বন্ধ। খরচ জোগাচ্ছেন ঋণ করে।

সোহাগ ভূঁইয়া বলেন, ‘একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি। বুক ফাইটা যায় কারও কাছে বলতে পারি না, যারা একবার টাকা দিছে, তারা আর টাকা দিতেও চায় না।’ তিনি বলেন, দিনে ২-৩ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়, খাবার কিনে খাওয়া লাগে। সারা রাত হাসপাতালের বাইরে খোলা আকাশের নিচে থাকেন। আর টাকা নেই, কিন্তু বাবা হয়ে তো অসুস্থ বাচ্চাকে চিকিৎসা না করিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন না।

বিগত কয়েক দিনে শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ১০টি শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা এসেছেন জামালপুর, ফরিদপুর, ঢাকার খিলক্ষেত, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ভৈরব থেকে। খরচের বিষয়ে সব অভিভাবকের প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতা। যেসব শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, তাদের পরিবারের খরচ অনেক বেশি হয়।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েকে ঢাকায় আনতে ভাড়াই দিতে হয়েছে ৯ হাজার টাকা। হাসপাতালে যেখানে আছেন, সেখানে ফ্যান নেই, একটি টেবিল ফ্যান কিনতে হয়েছে। মশা মারার জন্য ইলেকট্রিক ব্যাট কিনতে হয়েছে। এ হাসপাতালে আসার আগেই মেয়ের রক্তের পরীক্ষাসহ নানা পরীক্ষায় খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।
মা সীমা গাইন

চিকিৎসার বাইরেও খরচ

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুকে দেখছেন চিকিৎসক

রাজধানীর ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিভাবকেরা সন্তানের হামের চিকিৎসার জন্য এসেছেন।

হাসপাতালটির মেঝেতে চিকিৎসা চলছে ৫ মাস ১০ দিন বয়সী আনশি জয়ধরের। তার মা সীমা গাইন বলেন, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েকে ঢাকায় আনতে ভাড়াই দিতে হয়েছে ৯ হাজার টাকা। হাসপাতালে যেখানে আছেন, সেখানে ফ্যান নেই, একটি টেবিল ফ্যান কিনতে হয়েছে। মশা মারার জন্য ইলেকট্রিক ব্যাট কিনতে হয়েছে। এ হাসপাতালে আসার আগেই মেয়ের রক্তের পরীক্ষাসহ নানা পরীক্ষায় খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।

আনশির বাবা বিজয় জয়ধর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বল্প বেতনে চাকরি করেন। তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী হাসপাতাল থেকে দেওয়া খাবার খাচ্ছেন। তবে তাঁকে এবং হাসপাতালে থাকা তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীর জন্য খাবারের পেছনেই দিনে প্রায় ৩০০ টাকা লেগে যাচ্ছে। এই বাবা বলেন, মেয়েকে ক্লিনিক বা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হলে চিকিৎসা করানো সম্ভব হতো না।

চাঁদপুরে অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন হাবিবুর রহমান। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেঝেতে আট মাস বয়সী ছেলে ওমর ফারুককে ভর্তি করেছেন। তাঁর মা ফিরোজা বেগম বললেন, হাসপাতালে কত দিন থাকতে হবে, তা অনিশ্চিত। দিন যত যাবে, খরচও তত বাড়বে। খরচের কথা চিন্তা করে ছেলেকে চাঁদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে আনতে পারেননি। বাসে করে এসেছেন।

নোয়াখালী থেকে আসা মরিয়ম বেগম জানান, তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি জাফরিন এবং জারিফের বয়স ১০ মাস বয়স। একজনকে ৩ এপ্রিল এবং আরেকজনকে ৮ এপ্রিল এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনকে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় আনতেই ১২ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

সরকারি ব্যয় কম, বেশি ব্যক্তির পকেটের ব্যয়

হামের সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। ডিএনসিসি হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা খাতে ব্যক্তির ব্যয় বৃদ্ধির হিসাব জানিয়েছিল ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস ১৯৯৭-২০২০’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে। এতে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্য খাতে বছরে ব্যয় যদি হয় ১০০ টাকা, সরকার খরচ করে ২৩ টাকা। আর ব্যক্তি নিজে খরচ করে ৬৯ টাকা। ব্যক্তির এই খরচ বছর বছর বাড়ছে। এতে অনেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন। অনেক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, হামে চিকিৎসায় যে খরচ হচ্ছে, তা আর্থিক অবস্থা যা-ই থাকুক, পরিবারগুলোর জন্য অসহনীয় হয়ে যাচ্ছে। পরিবারগুলো এক হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছে না, আরেক হাসপাতালে দৌড়াতে হচ্ছে। অন্য হাসপাতালে পিআইসিইউ পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে সিন্ডিকেট কাজ করছে। এর মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে।

আবদুল হামিদ কয়েকটি পরামর্শ দেন। তার মধ্যে রয়েছে, করোনার সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যেমন আলাদা সেল করা হয়েছিল, তেমন হামের জন্য জরুরি টেলিফোন নম্বর দিয়ে সেল করা যায়। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কতটি পিআইসিইউ আছে, তার আপডেট তথ্য সরকার জানতে পারে। হাসপাতালগুলো রোগীকে রেফার করার সময় সে তথ্য দেখে রেফার করতে পারে।