
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ খুব সম্ভবত পাঁচ–সাত দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আজকের (রোববার) মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, সরকার তা–ই করবে।
আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিকে সাত ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এক দিনের মধ্যে। সেই ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সহযোগী হিসেবে তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার খুব দ্রুততার সঙ্গে আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছে। সেই পরীক্ষায় তিন দিন সময় লাগে। তিন দিনের মধ্যে সেটা শেষ হয়েছে। প্রতিবেদন গতকাল শনিবার বিকেলে জমা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চলে এসেছে। এগুলো সব একসঙ্গে করে অভিযোগপত্র প্রণয়নের কাজ শনিবার রাতের মধ্যে শেষ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একজন স্পেশাল পিপি নিয়োগ করেছি শুধু এই মামলার কাজ করার জন্য। সবকিছু বিবেচনায় আমরা আশা করছি যে আজকের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে এবং খুব সম্ভবত পাঁচ–সাত দিনের মধ্যে এই বিচারকাজ শেষ হবে।’
এসব ধর্ষণের ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়, সামাজিক মূল্যবোধের অভাব থেকে হচ্ছে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এখানে সমাজ সংস্কার দরকার। এখানে সামাজিক মূল্যবোধ তুলে ধরা দরকার ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে, সংস্কৃতির ভিত্তিতে। কিন্তু কিছু কিছু অপসংস্কৃতির আছর সমাজে পড়েছে। এই অপসংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের মাত্রা সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাজ হচ্ছে আইনানুগ ব্যবস্থা ও বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তাঁরা সবচেয়ে মনোযোগ এখানেই দিয়েছেন যে দ্রুততম সময়ে যাতে অভিযুক্ত বা অপরাধীরা গ্রেপ্তার হন। সেই জায়গায় তাঁরা এই তিন মাসে প্রতিটি ঘটনায় সফল হয়েছেন। ভবিষ্যতেও তাঁরা এ–জাতীয় যেকোনো ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত বা অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেবেন না।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার চায়, শেখ হাসিনা বিচারের মুখোমুখি হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে কয়েকবার। তাঁরা এখনো চান, আইনানুগ প্রক্রিয়ায়, দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকার তাঁকে ফেরত পাঠাবে। তাঁরা চান, তিনি বিচারের মুখোমুখি হন।
জুয়া, ব্যাটিং, অনলাইন জুয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার আলাদা একটা আইন করতে যাচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আশা করছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে সেই আইনটা পাওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত যে আইনটা আছে, সেটা মান্ধাতা আমলের। বর্তমানে যেসব হয়, অনলাইন জুয়া, অফলাইন জুয়া, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাটিং ইত্যাদি অপরাধের ধরন বেড়েছে। সব কটিকে বিবেচনা নিয়ে যুগোপযোগী একটা আইন আনা সম্ভব হবে।
পাসপোর্টে ফিরছে ‘এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’
সংলাপে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বরেন, পাসপোর্টে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশের পাসপোর্টে আবার যুক্ত হচ্ছে ‘এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দবন্ধ। পাসপোর্টে জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামনে যে পাসপোর্টগুলো ইস্যু করা হবে, সেই পাসপোর্টে আগের মতোই ‘এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দ যুক্ত করা হবে। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আর এটা বাংলাদেশের গণমানুষের চাহিদাও বটে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাসপোর্টে আরও পরিবর্তন আসছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় একটা ব্যক্তিতান্ত্রিক চর্চা লক্ষ করা গেছে। যেটা বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণের, এ দেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে না। সেই ক্ষেত্রে তাঁরা এটাকে বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা অনুসারে সাজানোর চেষ্টা করছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্টে এমন কিছু ছবি ধারণ করা হবে, যুক্ত করা হবে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব দেখা যাবে। বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক যে চিন্তা, সেটাও পাসপোর্টে পরিস্ফুটন ঘটবে। পাসপোর্টে কোনো দলীয় চিন্তা থাকবে না, আগে যেটা করা হয়েছিল। সবকিছুতে রাজনীতিকরণ বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা, সেগুলো পাসপোর্টে থাকবে না। এটা সরকারের অঙ্গীকার।
পাশাপাশি টাকার নোটে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি সংযোজন করা হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মুদ্রার মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি দেখা যাবে, যদিও এটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিষয়।
সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।