বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা; ৬ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা; ৬ জুন ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের কর কমিয়ে ১ শতাংশ করার দাবি

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ব্যক্তিত্ব, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, আগামী ১০ বছরের জন্য সব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও অগ্রিম করসহ সর্বমোট করের হার প্রতীকী ১ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় ‘জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য উৎস: চাই বাজেটের নীতিগত পরিবর্তন’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)। এতে সহ–আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা); ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ; ল-ইয়ার্স ফর এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (লিড) ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সৌর ও বায়ুশক্তির বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও নীতিগত বৈপরীত্য, উচ্চ কর এবং অর্থায়নের অভাবে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জাতীয় অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

কর কমানো ছাড়া লিখিত দাবির মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আবর্তনশীল তহবিল গঠন, যাতে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যায়। আবাসিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রতি কিলোওয়াটে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি প্রদান, করপোরেট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি চালু করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্লিনের নেটওয়ার্কিং অ্যাডভাইজার মনোয়ার মোস্তফা। আলোচনায় অংশ নেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অধিকার ও সুশাসন) বনশ্রী মিত্র নিয়োগী, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউবেল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ইটিআই বাংলাদেশের পরিচালক মুনীর উদ্দিন শামীম, লিডের গবেষণা পরিচালক শিমনউজ্জামান ও ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে সৌর ও বায়ুশক্তি মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতির ওপর ২৭ থেকে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত কর ও শুল্ক আরোপ করে খাতটির বিকাশকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর প্রায় ২৬.৯ শতাংশ কর আরোপ করা হলেও জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নীতিগত সুবিধা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির খরচ কৃত্রিমভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য নীতিগত ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা না হলে বাংলাদেশকে আরও দীর্ঘ সময় ব্যয়বহুল আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার বোঝা বহন করতে হবে। এর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা পর্যায়ের দাম বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ আরও তীব্র হবে।