অভিমত

আইনটির নাম বদল হলেও মানুষের হয়রানি কমবে না

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া
ফাইল ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হচ্ছে। বাস্তবতা হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এখন সাইবার নিরাপত্তা আইনে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। নতুন আইনে আসলে গুণগত কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ, যেসব ধারা আগেও ছিল এবং যেগুলোকে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, সেই ধারাগুলো থাকছে। শুধু সাজার পরিমাণ কমছে। সাজার পরিমাণ কম হওয়ার কারণে এই আইনের ব্যবহার কমবে না।

সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি বাতিলের ঘোষণা দিলে এই আইনে যারা এখন পর্যন্ত জেলে আছে, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো অনেক দাবি সামনে আসবে। সে জন্যই কথার চালাকি করে আইনমন্ত্রী বলছেন যে, ‘আইন বাতিল নয়, পরিবর্তন করছি।’ আইনের পরিবর্তন করতে গেলে নাম ঠিক রেখেই পরিবর্তন করতে পারতেন।

আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ–ও বলেছেন যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলে মানুষের মধ্যে চাপ তৈরি হয়। এ জন্য নাম পরিবর্তন করছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইন হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকছে না, এ কথাটাও তিনি বলেছেন। ফলে তাঁর কথায় কিছুটা স্ববিরোধী অবস্থান আছে।

আইন মানুষের জন্য। মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বাতিল চাইছে। এর পরিবর্তন চায়নি। এখানে মৌলিক যেসব সমস্যা আগে ছিল, নতুন নামের আইনেও একই সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। যখন-তখন যাকে-তাকে জেলে ঢোকানোর অবারিত ক্ষমতা পুলিশের কাছে থাকছে।

এত দিন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটা ভালো, এর অপব্যবহার হচ্ছে। আমরা বলছিলাম, আইনটা ব্যবহার করা হচ্ছে, অপব্যবহার না; আইনটাই খারাপ। এই আইনটা এতটাই খারাপ যে সংশোধন করলেও এর চরিত্র পাল্টানো যাবে না।

আইনটার মধ্যেই অন্তর্নিহিত একধরনের উদ্দেশ্য আছে, যা হলো বিরুদ্ধ মত দমন করা। মানুষের মধ্যে একধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা, যাতে তারা প্রতিবাদ করতে না পারে, কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধেও কথা বলতে না পারে। নয়তো এত অল্প সময়ের মধ্যে সাত হাজারের বেশি মামলা হওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা। শিক্ষক–শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, অধিকারকর্মী, কৃষক—কে এর ভুক্তভোগী হননি?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে যে কাজ করা যেত, সাইবার নিরাপত্তা আইন দিয়ে একই কাজ করা যাবে। আইনের নাম পরিবর্তন করে কেবল পাত্র পরিবর্তন করা হচ্ছে। বাস্তবে মৌলিক পরিবর্তন হবে না। এই আইন মানুষকে হয়রানি করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নাম পরিবর্তন হলেও আইনটি দ্বারা মানুষের হয়রানি কমবে না, কোনোভাবে বন্ধ হবে না।