ঢাকা–৭ আসনে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন পরিবারটির সদস্যরা
ঢাকা–৭ আসনে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন পরিবারটির সদস্যরা

পরিবারের সবাই এলেন ভোট দিতে, বললেন রাষ্ট্র যেন ঠিকঠাক হয়

ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সকাল সোয়া নয়টায় ভোট দিতে এসেছেন ব্যবসায়ী মো. শামীম আখতার (৬২)। দুই সন্তানই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। এ কেন্দ্র ঢাকা-৭ আসনে পড়েছে।

ছেলে আদনান শামীম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। বললেন, ‘২০২৩ সালে ভোটার হয়েছি। এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছি। গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ দিলে দেশ পরিবর্তন হবে। এ জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।’

এদিকে শামীম আখতার বললেন, ‘সবাইকে নিয়ে ভোট দেওয়ার দারুণ অনুভূতি। এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। দিনের ভোট রাতে হচ্ছে না। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আগেরবার ভোট দিতে পারিনি। অনেক দিন পর এবার আবার ভোট দিচ্ছি।’

মেয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিএসই তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া শামীম জানান, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যখনই সুযোগ পেয়েছেন, গিয়েছেন। বললেন, ‘অনেক দিন পর নির্বাচন হচ্ছে, চব্বিশের পর অনেক কিছু হয়ে গেল, এরপর নির্বাচন হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, সেটি যেন হয়। যে–ই জিতুক, তারা যেন দেশটাকে ঠিকঠাক গড়ে তোলে।’

ভোট দিয়ে বেরিয়ে শামীম আখতারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা মেয়েকে বললেন, ‘মা, তোমার কথা রেখেছি।’ কী কথা রাখলেন—জিজ্ঞাসা করতেই হাসি দিয়ে বললেন, ‘মা-মেয়ের কথা, আমাদের মধ্যেই থাক।’ গণভোট নিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ জিতলে একজন ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’

আনসার সদস্য বাশার খান জানান, কেন্দ্রটিতে চারজন পুলিশ এবং দুই সশস্ত্র আনসার সদস্যসহ ১৩ আনসার সদস্য আছেন। ভোটাররা সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিচ্ছেন, রাতেও কোনো সমস্যা হয়নি।

ওই পরিবারের সঙ্গে যখন কথা বলা শেষ, তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আরেক নারী ভোটার মোসাম্মাৎ জুঁই। বললেন, আগে ভোট দিতে পারেননি। এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছেন। খুব ভালো লাগছে, কোনো সমস্যা হয়নি।

ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. ইউসুফ জানান, কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ৩ হাজার ৭০৩ জন। আটটি কক্ষে ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ১৫৮ জন পুরুষ ও ৮৫ জন নারী ভোটার।