
সরকারি ব্যবস্থাপনায় আগামী বছর পবিত্র হজ পালনে খরচ হবে ন্যূনতম ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। আর বেসরকারিভাবে পালনে খরচ হবে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
আজ মঙ্গলবার আগামী বছরের পবিত্র হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তা ঘোষণা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। হজ ফ্লাইট শুরু হবে আগামী বছরের ৮ এপ্রিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনে সৌদি আরব যান।
সরকারি দুই প্যাকেজে খরচ ও সুবিধা
মন্ত্রী সরকারি মাধ্যমে দুটি প্যাকেজ নির্ধারণের কথা জানান। এর মধ্যে হজ প্যাকেজ-১–এ হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের বহির্চত্বর থেকে ১ হাজার হতে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন–সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২–এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মুয়াল্লেমের খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন। তবে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে ‘রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ’ সুবিধা নেওয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।
হজ প্যাকেজ-২ হজ প্যাকেজ-১–এর চেয়ে কিছুটা সুলভ প্যাকেজ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরিফের বহির্চত্বর থেকে দুই হতে তিন কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববি থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫–এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মুয়াল্লেমের খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
বেসরকারি প্যাকেজে খরচ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি তথা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের বহির্চত্বর থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন–সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। মিনায় জোন-৫–এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মুয়াল্লেমের খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, তালিকাভুক্ত যোগ্য এজেন্সিগুলো হজযাত্রী নিবন্ধন শুরুর আগে সৌদি সরকার নির্ধারিত এজেন্সিপ্রতি সর্বনিম্ন হজযাত্রীর কোটা পূরণের লক্ষ্যে গ্রুপ গঠন করবে। হজ এজেন্সিগুলোকে সরকার অনুমোদিত ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ গ্রহণ করতে হবে। গ্রুপভুক্ত এজেন্সিগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে অতিরিক্ত তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। তবে সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজ-২–এ বর্ণিত সেবা-সুবিধাদি কমিয়ে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না। ঘোষিত প্যাকেজগুলো হজ পোর্টালসহ এজেন্সির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। দমে শোকর বা আদাহি ও ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক হওয়ায় এ দুটি খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্ধারণ ছাড়া হজযাত্রী নিবন্ধন করা যাবে না।
২০২৭ সালের পবিত্র হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হাজিদের সেবা, আবাসন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু ও সার্ভিস প্যাকেজকে একটি সমন্বিত প্যাকেজের মধ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ নামে মোট চারটি সার্ভিস প্যাকেজ ছিল। কিন্তু ২০২৭ সালের হজে সার্ভিস প্যাকেজ হবে তিনটি। ‘ডি’ সার্ভিস প্যাকেজটি থাকছে না। এ ছাড়া ২০২৭ সালের হজে হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিমানভাড়া কমল
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের পবিত্র হজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমানভাড়া কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এ বছর প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় বিমানভাড়া গত বছরের চেয়ে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালে বিমানভাড়া ছিল প্রায় দুই লাখ টাকা। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বিমানভাড়া ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা করা হয়। আর ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হজ ফ্লাইটে বিমানভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক।
মোট খরচ বাড়ল কেন
গত বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে পবিত্র হজে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য (খাবার ছাড়া) ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। আর ২০২৭ সালের সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার বেশি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, গতবারের প্যাকেজটি ছিল খাবার ছাড়া। এবার খাবার বাবদ নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা। এ ছাড়া মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকার সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি বাদ দেওয়ায় খরচ বেড়েছে ৭০০ রিয়াল (৩৩ দশমিক ২০ টাকা হিসাবে ২৩ হাজার ২৪০ টাকা)। আবার বিনিময় হারের জন্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ টাকা।
নিবন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীরা ২০২৭ সালের হজে যিনি যে দেশে অবস্থান করছেন, তিনি সে দেশেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ করে ভিসা আবেদন করতে পারবেন। এর আগের বছরগুলোতে তাদের দেশে এসে এ কাজগুলো করতে হতো। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীরা যাতে অবস্থানরত দেশ থেকে সরাসরি সৌদিতে যেতে পারেন, সে বিষয়েও চেষ্টা করা হচ্ছে।
২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শেষ হবে। ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচন করে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন এবং প্যাকেজের সমুদয় টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে। হজে গমনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে।