
ফুলবাড়ী দিবসে উপলক্ষে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আজ শুক্রবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে ফুলবাড়ীর শহীদ তরিকুল, আল আমীন, সালেকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। জাতীয় কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
জাতীয় কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ ধ্বংস করে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি বাস্তবায়নের প্রস্তাবকারী এশিয়া এনার্জি নামে একটি বহুজাতিক কোম্পানির ফুলবাড়ীর অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিল ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট। ঘেরাওয়ের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিছিলের ওপর টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় তরিকুল ইসলাম, আল আমিন ও সালেকিন নামে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন তিন শতাধিক মিছিলকারী। তাঁদের মধ্যে বাবলু রায় নামে একজন চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান। এরপর ফুলবাড়ীবাসীর টানা চার দিনের গণ–আন্দোলনের মুখে ৩০ আগস্ট, তৎকালীন সরকার ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে ছয় দফা শর্তে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ফুলবাড়ী ছয় দফা চুক্তি বলে পরিচিত। এর পর থেকে দিনটিকে ফুলবাড়ী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
আজ শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, ফুলবাড়ী গণ–আন্দোলনের ১৬ বছর পার হলেও এখনো এশিয়া এনার্জিকে বহিষ্কার করা হয়নি। উল্টো আন্দোলনকারীদের নামে একাধিক মামলা করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
রুহিন হোসেন বলেন, ফুলবাড়ী চুক্তিতে দেশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তেল নিষিদ্ধ। তবু দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ–সংকটে দেশ-বিদেশের ‘কয়লা ব্যবসায়ী’ ও কমিশন এজেন্টরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি এসব বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি দেশের জাতীয় সম্পদসমূহের ওপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করে দেশের স্বার্থে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শহীদদের ‘লাল সালাম’ জানানো হয়।
জাতীয় কমিটি ঢাকা মহানগর, সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্ক্সবাদী), জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, সাম্যবাদী আন্দোলন, গণমুক্তি ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, কমিউনিস্ট লীগসহ বিভিন্ন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় জাতীয় কমিটির সংগঠকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাইফুল হক, নজরুল ইসলাম, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মাসুদ রানা, মাহিন উদ্দিন চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, ডা. হারুন উর রশীদ, মিহির ঘোষ, বহ্নি শিখা জামালী প্রমুখ।