সুজন লোগো
সুজন লোগো

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ বিএনপির অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট বরখেলাপ: সুজন

রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা চারটি অধ্যাদেশ বাতিল ও ১৬টি সংশোধনে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশে ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে, তা হবে ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট বরখেলাপ।

আজ রোববার সুজনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিচারপতি এম এ মতিন ও প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যে চারটি অধ্যাদেশ বাতিল ও ১৬টি অনুমোদনের বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত একটি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সংক্রান্ত দুটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত তিনটি, গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুটি ও দুর্নীতি দমন কমিশন–সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ।

সুজন মনে করে, ১৬টি অধ্যাদেশের অনুমোদন সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার তাৎপর্য হলো, সংসদে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এগুলো অতি সহজেই বাদ দেওয়া যাবে, যা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। এর মাধ্যমে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনমনে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছিল, তা ভেস্তে যাবে এবং সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ হোঁচট খাবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি পাওয়া জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত কতগুলো মৌলিক সংস্কার নিয়ে সরকারের টালবাহানার পর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের অনুমোদন নিয়ে টানাপোড়েন জাতির জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।

সুজন বলেছে, ‘আমরা আরও মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ জারি করেছে, যাতে এমন মানবতাবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধ এবং গুম ও অপহরণের সংস্কৃতি ফিরে আসতে না পারে। একইভাবে মানবাধিকার কমিশন আইনটি সংশোধনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে কমিশনকে কার্যকর করার লক্ষ্যে, যা অতীতে সরকারের অনুগত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে নখ–দন্তবিহীন সংস্থায় পরিণত হয়েছিল।’

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ–২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ–২০২৫ সহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে, যা বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য ও ক্ষমতার পৃথক্‌করণের নীতির সঙ্গে একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ। অথচ বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলে অধিকতর যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে। অন্যথা দলীয় বিবেচনায় বিচারক নিয়োগের পুরোনো পদ্ধতি ফিরে আসবে।

সুজন মনে করে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি স্বাক্ষরিত লিখিত জাতীয় অঙ্গীকারভিত্তিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’, তাদের ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ ও ২০২৬ সালের দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে দলটির অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট বরখেলাপ।

জনকল্যাণে বিএনপি তার দলীয় অঙ্গীকার ও সংস্কারের ব্যাপারে জন–আকাক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করে আইনে পরিণত করবে বলে আশাবাদ জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসক নিয়োগ করে নির্বাচনের আগপর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য চারটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই। অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হলে দলীয় প্রশাসক বসানো ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ থেকে যাবে। সে জন্য বিএনপির ৩১ দফা ও দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারের পরিপন্থী এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন না করার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে সুজন।