সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বাদ দিয়ে অন্য এলাকাগুলোয় সীমিত আকারে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দিতে চায় সরকার। পাথর উত্তোলনের প্রভাব প্রতিবেশ ও পরিবেশে কেমন হবে, তা নিরূপণের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সিলেট বিভাগের পাথর ও বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয়’ বিষয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদকর্মীদের এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ করে খনিজ সম্পদ আইন এবং পরিবেশসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে, সরকারঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বাদ দিয়ে বাকি সব জায়গায় কীভাবে সীমিত আকারে পাথর কোয়ারিগুলো ইজারা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজকের এ সভা হয়েছে।
এ বিষয়ে সবার মতামত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠপর্যায় থেকে আমাদের আগে একটা জরিপ দরকার। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন সদস্যকে নিয়ে কমিটি করা হবে। কমিটি যদি চায়, আরও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।’
সালাউদ্দিন জানান, ‘এ কমিটি সশরীর জায়গাগুলো পরিদর্শন করে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে যেসব স্থানে পলিপতন হচ্ছে, সেসব স্থানে কী পরিমাণ পাথর–বালু জমছে, সেগুলো পরীক্ষা করবে। নদীভাঙনের কারণে আমাদের সীমান্তের পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়গুলো তারা পরীক্ষা করবে। একই সঙ্গে কী পরিমাণ, কত গভীরতায় এই পাথরগুলো উত্তোলন করলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না, সে বিষয়ে পরামর্শ দেবে।’
বিছানাকান্দি ও ভোলাগঞ্জে কীভাবে আরও পর্যটক আকর্ষণ করা যায়, কমিটি সে বিষয়েও মতামত দেবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ মাসের শেষের দিকে এ কমিটির প্রতিবেদন চলে আসবে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী মাসের প্রথম সপ্তাহে আমরা আবার বসব। এখানে আরেকটি বিষয় হলো, বিভিন্ন পাথর কোয়ারি সম্পর্কে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও রায় আছে। সুপ্রিম কোর্টেও একটা বিষয় পেন্ডিং (অনিষ্পন্ন) আছে।’
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকেরা সেসব মামলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে, আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে অগ্রগতি আমাদের অবহিত করবে। আমরা আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে বিধি মোতাবেক এ বিষয়ে অগ্রসর হব।’
প্রসঙ্গত, প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষায় সিলেট অঞ্চলের ১৭টি পাথর কোয়ারির ইজারা গত বছরের ২৭ এপ্রিল স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়া যাবে না বলেও সিদ্ধান্ত হয়।