ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের ভেতরে দোকান করার জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আনিসুর রহমান ওরফে টিপু নামের এক ঠিকাদারকে। কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়া তিনি রেলস্টেশনের জায়গা পেয়েছেন, যেখানে কখনোই কাউকে দোকান করতে দেওয়া হয়নি। দোকানের জায়গাটি স্টেশনের নকশাবহির্ভূত।
শুধু কমলাপুরে দোকান নয়, রেলের একের পর এক ঠিকাদারি কাজ পাচ্ছেন আনিসুর রহমান। রেলওয়ের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রক হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। নিয়েছেন শৌচাগার বা টয়লেট ইজারা। অন্যদিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পার্কিং এলাকা ইজারা পেতে যাচ্ছে তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা প্রতিষ্ঠান।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, আনিসুর রহমান নিজেকে কোনো কোনো মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। ব্যবহার করেন রাজনৈতিক প্রভাব। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে জায়গায় কাউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয় না, সেখানে আনিসুর রহমান কীভাবে পেলেন?
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ভেতরে যাত্রীদের জন্য একটা দোকান প্রয়োজন ছিল। আর দরপত্র ছাড়া দোকানের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া যায়। স্টেশনের ভেতরে দোকানের জায়গা বরাদ্দের জন্য অতীতে আবেদন করলেও দেওয়া হয়নি, এখন কী বিবেচনা কাজ করেছে—এমন প্রশ্নে রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেন, অতীতের বিষয়টি তিনি জানেন না।
রেলের একের পর এক ঠিকাদারি কাজ আনিসুর রহমান পাওয়ার বিষয়ে রেলের মহাপরিচালক বলেন, কমলাপুরে তাঁদের প্রভাব আছে। একচেটিয়া পাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁরা কাজ পাননি। এখন কিছু পেতে পারেন।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, আনিসুর রহমান নিজেকে কোনো কোনো মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। ব্যবহার করেন রাজনৈতিক প্রভাব। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে জায়গায় কাউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয় না, সেখানে আনিসুর রহমান কীভাবে পেলেন?
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রেলের কমলাপুর অঞ্চলের ঠিকাদারি, জমি ও পার্কিং ইজারা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হন খালেদ।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, আনিসুর রহমান ছিলেন খালেদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আনিসুর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। বিশেষ করে বিএনপির সংসদ সদস্য (ফেনী-১) ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশি ভালো। রফিকুল রেলের ঠিকাদারও। এদিকে আনিসুর কখনো কখনো রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদকে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় দেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, শাহজাহানপুর এলাকার রেলে যাঁরা ব্যবসা করেন তাঁদের অনেককেই চেনেন। এর অর্থ এই নয় যে তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর নিয়ম ভেঙে তাঁরা রেলে সুবিধা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (রফিকুল আলম ও আনিসুর) পুরোনো ঠিকাদার। তাঁদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার কোনো ভূমিকা নেই। সুপারিশও করিনি।’
রেলওয়ে সূত্র বলছে, আনিসুর রহমান ছিলেন খালেদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আনিসুর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। বিশেষ করে বিএনপির সংসদ সদস্য (ফেনী-১) ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশি ভালো। রফিকুল রেলের ঠিকাদারও।
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন কমলাপুর। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রীর আগমন, প্রস্থান হয় স্টেশনটি দিয়ে। এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও (কেপিআই)।
কমলাপুর স্টেশনের ভেতরে প্ল্যাটফর্মের ঠিক মুখে প্রায় ১২ হাজার বর্গফুট খোলা জায়গা আছে। ৩০টির মতো গাছের ছায়াঘেরা জায়গাটিতে বসার ব্যবস্থা আছে। দোকান করার জন্য জায়গাটি খুবই আকর্ষণীয়। সেখানেই আনিসুর রহমানের প্রতিষ্ঠান সিকদার কনস্ট্রাকশনকে ৪৮০ বর্গফুট জায়গা দেওয়া হয়েছে খাবারের দোকান করতে। জায়গার পরিমাণ কম হলেও দোকানের আঙিনা হিসেবে পুরো ১২ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করা যাবে।
আনিসুর রহমানের প্রতিষ্ঠানকে গত ৪ জুন জায়গা চূড়ান্ত বরাদ্দের চিঠি দেওয়া হয়। তারা আবেদন করেছিল গত মার্চে। ইজারা মূল্য প্রতি বর্গফুট বছরে আড়াই শ টাকা। অর্থাৎ মাসে ২১ টাকার কিছু কম। মাসে ১০ হাজার টাকা ভাড়া আসবে। কমলাপুর স্টেশনের বাইরের দিকের দোকানগুলোরও ভাড়া একই।
সারা দেশে রেলের স্টেশন আছে ৪৮৫টি। আকার ও অবস্থান বিবেচনায় কোনো কোনো রেলস্টেশনের নকশায় দুই থেকে তিনটি বুক স্টল ও ফাস্ট ফুডের দোকানের জন্য আলাদা জায়গা চিহ্নিত থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রেলস্টেশনে দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অবশ্যই উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে রেলের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন চিঠি দিয়ে দরপত্র ছাড়া দোকান বরাদ্দ না করার নির্দেশ দেন। পরে রেলের পশ্চিমাঞ্চলে আটটি স্টেশনে দরপত্রের মাধ্যমে দোকান বরাদ্দও দেওয়া হয়। পূর্বাঞ্চলেও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এরপরও দরপত্র ছাড়া কমলাপুরে আনিসুর রহমানকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তাঁরা (রফিকুল আলম ও আনিসুর) পুরোনো ঠিকাদার। তাঁদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার কোনো ভূমিকা নেই। সুপারিশও করিনি।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব
কমলাপুর স্টেশনের জায়গাটিতে দোকান বসানোর অনুমোদন পেতে অতীতে অনেকেই চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি। কিন্তু পেয়েছেন আনিসুর রহমান। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটা সত্য, অনেকেই কমলাপুরের জায়গাটি বরাদ্দ চেয়েছিল। তাঁকে যোগ্য বিবেচনা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসার চেয়ে এটা তাঁর শখ। বিদেশের আদলে তিনি দোকান গড়ে তুলবেন।
রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে বন্ধু পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে আনিসুর রহমান বলেন, একই এলাকায় দীর্ঘদিন থাকেন তাঁরা। সম্পর্ক থাকতেই পারে। প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে সুবিধা নেন বা প্রতিমন্ত্রী সুবিধা দেন, বিষয়টি তেমন নয়। সেটা হলে তো রেলওয়ের বড় বড় কাজ তাঁকে দেওয়া হতো। তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত। সিন্ডিকেট করে দরপত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয় নেই। তিনি বলেন, তাঁরা যেসব কাজ পাচ্ছেন, সেগুলো কম টাকার। ভবিষ্যতে বড় কাজ করার লক্ষ্য আছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত রেলের ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চলে নানা কাজের ১৯টি দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কাজ পেয়েছে আনিসুর রহমানের সিকদার কনস্ট্রাকশন। সাতটি কাজ পেয়েছে সংসদ সদস্য রফিকুল আলমের ইমা এন্টারপ্রাইজ। দুটি শরীফ অ্যান্ড সন্স। এসব কাজের ব্যয় ১০ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকার মধ্যে।
রেলের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, সিকদার কনস্ট্রাকশনের বড় কাজের অভিজ্ঞতা কম। এ জন্য তারা এখন ছোট কাজে নজর বেশি দিচ্ছে। অভিজ্ঞতা হলে বড় কাজে নজর দেবে। তাঁরা আরও বলেন, ছোট কাজে তদারকি কম থাকে। ফলে এতে লাভের হার বেশি।
রেল সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া আনিসুর রহমান সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, ভৈরববাজার, নরসিংদী ও গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশনের গণশৌচাগার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।
রেলস্টেশনের গণশৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আয় ভালো।
রেল সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া আনিসুর রহমান সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, ভৈরববাজার, নরসিংদী ও গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশনের গণশৌচাগার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনের পার্কিং এলাকাও ইজারা পেতে যাচ্ছেন আনিসুর রহমান। তবে সেটা তাঁর স্ত্রী রেজওয়ানা রহমানের নামে।
ক্ষমতাসীন ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার, সংসদ সদস্য ও সরকারি দপ্তর—সব মিলিয়ে যে তথ্য এসেছে, তা স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের বড় উদাহরণ মনে হচ্ছে। বর্তমান সরকারের শীর্ষ সর্বোচ্চ ইতিবাচক, আশাজাগানিয়া নানা কিছু করা হচ্ছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান
অন্য ঠিকাদারদের অভিযোগ, আনিসুর রহমানের স্ত্রী সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন না। মজুমদার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কার্যালয়ে সবার দর উন্মুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন করা হয়নি। পরদিন কাউকে না জানিয়ে দর উন্মুক্ত করা হয়। এই বিষয়ে মজুমদার এন্টারপ্রাইজ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অভিযোগ দিয়েছে। এখনো বিষয়টি ফয়সালা হয়নি।
রেলস্টেশনের গণশৌচাগার ও পার্কিং ইজারা নেওয়ার বিষয়ে আনিসুর বলেন, পার্কিং নিয়েছেন। শৌচাগার ইজারা নেওয়ার মতো এত নিচে নামেননি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে অন্যরা শৌচাগার ইজারা নিয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দর স্টেশনের একটি গণশৌচাগার ইজারা নিয়েছেন সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা ছোট ভাইয়েরা করে। আমরা তো এগুলো করি না।’
রফিকুল আলম আরও বলেন, রেলে তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ঠিকাদারি করেন। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির কেউ রেল ভবনের আশপাশে যেতে পারতেন না। এখন তাঁরা কাজ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অনলাইনে দরপত্র হয় এবং কেউ কাউকে কাজ দিতে পারে না। আনিসুর রহমান টিপুর সঙ্গে সখ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টিপুকে চিনি না বললে ভুল হবে। তবে সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করি না।’
সরকারি ঠিকাদারি কাজে সব সময়ই সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের আধিপত্য দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিছু ঠিকাদার কাজ বেশি পেতেন। অভিযোগ আছে তখন মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের কাছ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা নিতেন। বিপরীতে ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়, মানুষ সুফল কম পায়।
টিপুকে চিনি না বললে ভুল হবে। তবে সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করি না।সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষমতাসীন ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার, সংসদ সদস্য ও সরকারি দপ্তর—সব মিলিয়ে যে তথ্য এসেছে, তা স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের বড় উদাহরণ মনে হচ্ছে। বর্তমান সরকারের শীর্ষ সর্বোচ্চ ইতিবাচক, আশাজাগানিয়া নানা কিছু করা হচ্ছে। কিন্তু নিচের দিকে, মন্ত্রণালয় পর্যায় এত তাড়াতাড়ি অনিয়মে জড়িয়ে পড়বে, তা হতাশাজনক। তিনি বলেন, এগুলো বন্ধ না করলে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যে ভালো কিছু করার তাড়না হচ্ছে, এর সুফল পাওয়া যাবে না।