
পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। তিনি বলেন, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত মানুষকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, আর ইসরায়েলকে তুলে ধরা হচ্ছে ‘গণতন্ত্রের ত্রাণকর্তা’ হিসেবে।
মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্যে ইরানের রাষ্ট্রদূত এ কথাগুলো বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। তাঁরা মহান আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস রাখেন এবং সব সময় ইরান ও এর জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ইরানিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। আমরা এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব অটুট রাখতে চাই।’
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরে জলিল রহিমী বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রকৃত যুদ্ধ চলছে। একটি পরাশক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের মতো একটি স্বাধীন দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের আলাদা সামরিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দিক থাকে। আর এগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো গণমাধ্যমের লড়াই (মিডিয়া ওয়ার)।
পশ্চিমা প্রচারণার সমালোচনা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পশ্চিমাদের বয়ান অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট। পশ্চিমা গণমাধ্যমে ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত মানুষকে ‘সন্ত্রাসী’ এবং ইসরায়েলকে ‘গণতন্ত্রের ত্রাণকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সত্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক আইনে বলপ্রয়োগের বৈধতা নিয়ে জাতিসংঘ সনদের দুটি বিধানের কথা উল্লেখ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধের মাত্র দুটি বৈধ সুযোগ রয়েছে। এর একটি হলো সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার। ইরানের দাবি, এই বিধান মেনেই তারা নিজেদের দেশ ও জনগণকে রক্ষা করছে। দ্বিতীয়টি হলো সনদের সপ্তম অধ্যায়ের ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বলপ্রয়োগের অনুমোদন দিতে পারে। রাষ্ট্রদূত প্রশ্ন তোলেন, নিরাপত্তা পরিষদ কি ইরানের ওপর হামলার এমন কোনো অনুমোদন দিয়েছে? বাস্তবে এমন কোনো অনুমোদন নেই।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে সিমনস। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীরসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।