
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মালিক ও শ্রমিকদের জন্য একটা দরদি সমাজ গড়তে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সমাজকে পাল্টাতে চাই। মালিক–শ্রমিক সবার জন্য একটা দরদি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেকটি মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, ভালোবাসবে। সে একে অপরের পরিচিত হোক, অপরিচিত হোক। মানুষ পরিচয়ই তাঁর সম্মানের জন্য যথেষ্ট হবে।’
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি ভবনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ কথা বলেন জামায়াত আমির। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন শফিকুর রহমান। এ ছাড়া জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা ইফতারে উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করলেই কেবল এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। অন্যভাবে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের হাত ধরেই এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে, ইনশা আল্লাহ।’
জামায়াত আমির জানান, সমাজের দুই শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মিশতে তিনি সব সময় আনন্দ পান। এর মধ্যে একটি হলো শিশুরা, আরেকটি হলো যাঁরা ঘাম ঝরিয়ে হালাল রুজি আয় করেন। সমাজের অনেকেই শ্রমিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রুমাল দিয়ে মুছে ফেলেন, যাতে হাতে ঘামের গন্ধ লেগে না থাকে। তবে তিনি তাঁদের বুকে জাপটে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছে এটি দুর্গন্ধ নয়, মনে হয় আতরের সুগন্ধ।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে সমাজের বিভিন্ন জায়গায় মালিক–শ্রমিক সংঘাত দেখি। এটা হওয়া উচিত নয়। মালিকপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে বলেই কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আবার শ্রমিক আছে বলেই মালিকপক্ষের কলকারখানা সচল থাকে। সুতরাং একজন আরেকজনের পরিপূরক।’
মালিকপক্ষের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, মালিকেরা যেন নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের সন্তানের মতো দেখেন। এতে ভালোবাসা বাড়ে। তবেই তাঁরা (শ্রমিক) যদি কোনো ভুল করে ফেলেন, সেটাকে এড়িয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু শুধু শ্রমিক হিসেবে দেখলে তাঁদের সামান্য ভুলত্রুটিও ক্ষমা করা যায় না। তখন তাঁরা কঠোর হন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। গালি দিয়ে শাসন করে, ধমক দিয়ে, পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে কোনো লাভ হয় না। আদরের সঙ্গে শাসন করলেই বরং সেটি সবচেয়ে ভালো শাসন হয়।
শ্রমিকদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, শ্রমিকদেরও মালিককে পিতার মতো দেখতে হবে। তবেই তাঁর থেকে পিতৃসুলভ আচরণ পাওয়া যাবে। সেটি না করে যদি মুখোমুখি হয়ে যায়, তাহলে এই নেয়ামত তারা পাবে না। কারখানার যন্ত্রপাতিকে সন্তানের মতো দেখতে হবে। তবেই সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ হবে। সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাবে। কারণ, কারখানা বেঁচে থাকলেই শ্রমিক বাঁচবে। সমাজের সব স্তরে মালিক–শ্রমিকের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলেই সমাজটা মানবিক হবে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে।
শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকের কাজের মূল্যায়ন যদি শ্রমঘণ্টা দিয়ে করা হয়, তখন সে–ও ঘড়ির দিকে তাকাতে থাকে। কখন সময় শেষ হবে। এখানে বাড়তি কিছু থাকে না। মালিক–শ্রমিকের এই পরিবেশটা চাইলেই সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু মাঝখানে কিছু লোক আছেন, তাঁরা এই সম্পর্ক চান না। তাঁরা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করতে চান। প্রতিহিংসার ভাব তৈরি করে রাখতে চান। যাতে করে তাঁরা মাঝখানে থেকে দর–কষাকষি করে নিজেরা লাভবান হতে পারেন।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করবেন। শ্রমিকের দুটি কল্যাণে কাজ করবেন। প্রত্যেক শ্রমিকের মানবিক অনুভূতি জাগিয়ে তাঁদের মাঝে নৈতিকতা তৈরি করবেন। আর দ্বিতীয় হলো তাঁদের কোনো অধিকার যাতে কায়দা করে কেউ কেড়ে নিতে না পারে। সেটি হলে তাঁদের পক্ষে যোদ্ধা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন।