
শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। যুক্তিতর্ক শেষ হলে সাধারণত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকে।
এই মামলার ১৩তম সাক্ষী মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানীর জেরা শেষ হওয়ার পর দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৫তম সাক্ষী হিসেবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি দেবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের সাক্ষী হাজির করতে পারবে। এখন পর্যন্ত আসামিপক্ষ দুজন সাক্ষীর নাম জমা দিয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক গতিতে বিচারকাজ চললে অক্টোবরের মধ্যে উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, ১০৪ জন ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে রাষ্ট্র সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামের ব্রিফিংয়ের পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসামি জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও তাঁর বোন নাজনীন নাহার। তিনি অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশন গায়ের জোরে কথা বলছে। কারণ, তারা অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি।
নাজনীন নাহারের দাবি, জিয়াউল আহসানকে মূলত টার্গেট করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিয়াউল আহসানকে চাপ দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে জবানবন্দি দেন। কিন্তু তিনি তা দেননি। বিষয়টি প্রসিকিউশন মেনে নিতে পারেনি।
এদিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা ও চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর রাতের এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আবেদন করেছেন তাঁর আইনজীবী মাহমুদুল হোসাইন।
পাশাপাশি তারেক সাঈদকে যেন যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা কী, তা জানতে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারও আবেদন জানানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আইনজীবী মাহমুদুল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, মুন্সিগঞ্জ কারাগারে গভীর রাতে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে কয়েকজন কারারক্ষী তারেক সাঈদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন।