প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ (সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন) তিন সচিবকে নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা সচিবেরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে নতুন সরকার গঠনের আগের তিন দিনে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদের দুজন কর্মকর্তা নিজে থেকে সরে গেছেন। একজন হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ, অন্যজন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। এরপর চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে। তিনি এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সচিবালয়ের সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনে আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে খালি হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ চারটি সচিবের পদে যেমন নিয়োগ দেওয়া হবে, তেমনি চুক্তিতে থাকা কয়েকজন সচিবের জায়গায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদে পরিবর্তন আসতে পারে।
একইভাবে পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। এসব নিয়ে এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ পদ পেতেও তৎপর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। প্রথম ছয় মাসেই সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের ১ জন ও অতিরিক্ত সচিব পদের ১৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদের ২৩ জন, গ্রেড-১ পদের ২ জন ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৫১ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এরপরও আরও বেশ কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়।
অন্যদিকে সচিবসহ বেশ কিছু পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমানে শুধু সচিব ও সমপর্যায়ের পদে অন্তত ১৬ কর্মকর্তা চুক্তিতে আছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনপ্রশাসনে নতুন সরকার এসে পরিবর্তন আনবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁরা আশা করেন, নতুন সরকার অতীতের সরকারগুলোর মতো দলীয়করণ করবে না এবং তা করতে গিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেবে না এবং কোনো কর্মকর্তা ‘প্রতিহিংসার’ শিকার হবেন না।
ক্ষমতাসীন বিএনপির ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আছে। বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।