আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জবানবন্দিতে শহীদের বাবা

‘আব্বু, আমি আজ আন্দোলনে যাব, তোমার সঙ্গে হয়তো আর দেখা হবে না’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. আব্দুর রহমান। গণ–অভ্যুত্থানের সময় লক্ষ্মীপুরে তার ছোট ছেলে ওসমান পাটোয়ারী (২২) শহীদ হন।

জবানবন্দিতে আব্দুর রহমান বলেন, আন্দোলনে যাওয়ার আগে ফোন করে ওসমান তাঁকে বলেছিলেন, ‘আব্বু, আমি আজ আন্দোলনে যাব। আমার সাথে হয়তো তোমার আর দেখা হবে না। তুমি আমাকে মাফ করে দিও।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ বুধবার জবানবন্দি দেন আব্দুর রহমান। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ মামলার সব আসামিই পলাতক।

জবানবন্দিতে আব্দুর রহমান বলেন, তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়। তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক। তাঁর এক মেয়ে ও দুই ছেলে ছিল। তাঁর ছোট ছেলে ওসমান জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় শহীদ হন। ওসমান মৃত্যুর আগে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আব্দুর রহমান জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট তিনি ঢাকায় ছিলেন। সেদিন সকালে তাঁর ছোট ছেলে ওসমান পাটোয়ারী তাঁকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আব্বু, আমি আজ আন্দোলনে যাব। আমার সাথে হয়তো তোমার আর দেখা হবে না। তুমি আমাকে মাফ করে দিও।’ তিনি তখন ছোট ছেলেকে আন্দোলনে যেতে না করেন। তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে ওসমানকে আন্দোলনে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে কেন, তা জানতে চান। তার স্ত্রী তখন বলেন, ‘ওসমান আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার দুই গালে ও কপালে চুমু খেয়ে বলেছে, আম্মু তুমি আমাকে আয়াতুল কুরসী পড়ে ফুঁ দিয়ে দেও আল্লাহ যেন আজকে আমাকে শহীদ হিসাবে কবুল করেন।’ ওই দিন তাঁর ছেলে ওসমান লক্ষ্মীপুর শহরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন।

পরে লোকজনের কাছে জানতে পারেন, লক্ষ্মীপুর পিংকী প্লাজার সামনে ওসমান গুলি খেয়ে রাস্তার ওপর পড়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা তাহেরের ছেলে সালাউদ্দিন টিপু ও তাঁর সহযোগীরা গুলি করে তাঁর ছেলেসহ দুজন আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে। টিপু ও তাঁর ছোটভাই বিপ্লব, শাহীন, শিবলুসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লক্ষ্মীপুরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।

এই মামলার সাত আসামি এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীদের নির্দেশে ও উসকানিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আব্দুর রহমান।