
জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানা গেছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা গত ৩১ আগস্ট এ আবেদন করেছিলেন। আবেদন সূত্রে জানা যায়, জব্দের আদেশ দেওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন স্থানের জমি ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের একটি প্লট। এ ছাড়া দুটি টয়োটা গাড়িও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবরুদ্ধের আদেশ পাওয়া ব্যাংক হিসাবের মধ্যে রয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের ছয়টি হিসাব।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, মুজিবুল হক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাবলিক সার্ভেন্ট (সরকারি কর্মচারী) হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে ও অসৎ উদ্দেশ্যে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৫১ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। এ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলাটি তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আসামির নামে থাকা এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে তাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। ১ সেপ্টেম্বর আদেশ হয়।