
দেশের সুবিধাবঞ্চিত ৬০ হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে চোখের পরীক্ষা ও চশমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ভিশনস্প্রিংয়ের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ব্র্যাক ব্যাংকের করপোরেট দায়িত্বশীলতা (সিএসআর) কার্যক্রমের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘অপরাজেয় আমি’র আওতায় ২০২৬ সালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের এই সেবা দেওয়া হবে।
গত বছরের সফল কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এ বছর এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এই উদ্যোগের আওতায় ৪৭ হাজারের বেশি মানুষের চোখের পরীক্ষা এবং প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে চশমা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে চশমা পাওয়া প্রতি পাঁচজন সুবিধাভোগীর মধ্যে চারজনই জীবনে প্রথমবারের মতো চশমা ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ হলো দীর্ঘ সময় ধরে চোখের সমস্যা নিয়ে জীবন যাপন করছিলেন তাঁরা। ধারণা না থাকায় চিকিৎসাসেবার বাইরেই রয়ে গিয়েছিলেন, যা ব্র্যাক ব্যাংকের এই মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দূর হয়েছে।
এ বছর ব্র্যাক ব্যাংক তাদের করপোরেট ও এসএমই গ্রাহকদের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের দৃষ্টিশক্তির সুরক্ষায় আরও জোর দেবে। তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতের হাজার হাজার শ্রমিক এতে সরাসরি উপকৃত হবেন, যাঁদের সাধারণ চক্ষুসেবা পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।
গত বছরের সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশি ছিলেন নারী, যা নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাবলম্বী করায় ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ অবদানকে তুলে ধরে। যেসব শ্রমিককে সূক্ষ্ম ও নিখুঁত কাজ করতে হয়, একজোড়া চশমা তাঁদের উৎপাদনশীলতা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, সুস্থ ও স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি প্রত্যেক মানুষেরই মৌলিক অধিকার। চোখে ভালোভাবে দেখতে পাওয়াটা যেকোনো মানুষের জন্য তাঁদের সামাজিক মর্যাদা, সক্ষমতা ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল ভিত্তি। তিনি আরও বলেন, ‘“অপরাজেয় আমি”র মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক এমন সব মানুষের কাছে পৌঁছেছে, যাঁদের আগে কখনো চোখ পরীক্ষার সুযোগই হয়নি। মাত্র একজোড়া চশমা তাঁদের কর্মজীবন, উপার্জন ও দৈনন্দিন জীবনে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। আমরা সব সময় এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কর্মক্ষম সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এই কর্মসূচিতে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘ভিশনস্প্রিং’। তারা মূলত সাশ্রয়ী মূল্যের চশমা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের উপার্জনের সম্ভাবনা, শেখার সক্ষমতা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাদের ‘ক্লিয়ার ভিশন ওয়ার্কপ্লেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ভিশনস্প্রিং সেসব কর্মী ও জনগোষ্ঠীর কাছে চোখের পরীক্ষা এবং সাশ্রয়ী চশমা পৌঁছে দেয়, যাঁদের চক্ষুসেবার সুযোগ সীমিত।
২০২৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘অপরাজেয় আমি’ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় করপোরেট-নেতৃত্বাধীন চক্ষুসেবা উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত এই একক উদ্যোগের আওতায় দেশের ৬৩ হাজার ৮৭২ জনের বেশি মানুষকে চোখের চিকিৎসাসেবা দিয়েছে ব্যাংকটি।
ব্র্যাক ব্যাংক বিশ্বাস করে, সমাজের সর্বস্তরে সমান সুযোগ ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব। সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানুষের আর্থিক বাধা দূর করতে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং টেকসই মানবসম্পদ তৈরি করতে ভবিষ্যতেও ব্র্যাক ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।