মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

এস আলম-পি কে হালদারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন এফএসআইবির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট

৩৪ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আজ রোববার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে এ মামলায় ১৫ জনের মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। পরে তাঁকে জেরা করা হয়। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন বলেন, ১৩ আসামির মধ্যে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক ও সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই কারাগারে আছেন। রাশেদুল হকের পক্ষে তাঁর আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ আজ সাক্ষী আসাদুল আজাদকে জেরা করেন। অপর আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ বাবুল ব্যাপারী জেরা মুলতবির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অবশিষ্ট জেরা এবং তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৯ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারসহ গত বছরের ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করেন। ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ওই ঋণ বিতরণের নামে তা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ১৬ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীন হক ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।

মামলার অপর আসামিরা হলেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না, মাররিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক এবং মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন মামলার বাদী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক সাক্ষ্য দেন। পরে ২২ জুন পাঁচজন এবং ৮ জুলাই আরও চারজন সাক্ষ্য দেন।