
আগের বছরের তুলনায় এবার রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে এমন পাত্র এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থলের সংখ্যা বেড়েছে। এই মশার লার্ভা বেশি রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মহাখালী, গুলশান, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুর এবং দক্ষিণ সিটির নবাবপুর, দয়াগঞ্জ ও ডিস্টিলারি রোড এলাকায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার প্রাক্ বর্ষা এডিস জরিপে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার আওতাধীন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কীটতাত্ত্বিক দল গত ২৪ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই জরিপ চালায়। ঢাকার দুই সিটির মোট ৯৮টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ১৫০টি বাড়িতে জরিপ পরিচালিত হয়। প্রাক্ বর্ষা এই জরিপের ফলাফল আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবন মিলনায়তনে প্রকাশ করা হয়।
মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স‘ নামে পরিচিত। জরিপ বলছে ২৩টি ওয়ার্ডে ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ ১০–এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ১০টি পাত্রে এডিস মশা বা লার্ভা পাওয়া গেছে। আর ২০–এর বেশি ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ডে।
সর্বোচ্চ ব্রুটো ইনডেক্স ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পাওয়া গেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে (ডিস্টিলারি রোড)। ব্রুটো ইনডেক্স ২০ শতাংশ পাওয়া গেছে নবাবপুর ও দয়াগঞ্জ এলাকায়। আর উত্তর সিটি করপোরেশনের মহাখালী, গুলশান, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
জরিপের ফল অনুযায়ী, ভেজা মেঝে, প্লাস্টিক ড্রাম, প্লাস্টিকের পাত্র এবং পানির ট্যাংকে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল। প্রায় ২৪ শতাংশ প্লাস্টিক ড্রাম মশার প্রজননস্থল, যা গত বছর ছিল ১৯ শতাংশ। পানি জমে থাকা মেঝের মধ্যে ২৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রজননস্থল। গতবার যা ছিল ২০ দশমিক ২২ শতাংশ।
জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার একরামুল হক বলেন, পানির মিটার, পানি জমে থাকা মেঝে ও প্লাস্টিকের পাত্রে মশার উপস্থিতি বেশি। জরিপের আগে বৃষ্টি হয়নি, অর্থাৎ এসব প্রজনস্থল মানুষের তৈরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়লে অন্যান্য রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়। করোনার সময় এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে না পারলে আবার ধাক্কা খেতে হবে। সিটি করপোরেশনগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু রোগী বাড়বে।