চাকরি দেওয়ার ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণায় স্বামী–স্ত্রী: র‌্যাব

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতানোর অভিযোগে এক দম্পতিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব
ছবি: সংগৃহীত

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হতো বিপুল অর্থ। এ কাজে খোলা হয়েছিল একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। আট মাস ধরে চলছিল এভাবেই। রোববার রাজধানীর উত্তরখান থেকে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত এক দম্পতিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক জুয়েল ভূঁইয়া, তাঁর স্ত্রী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামসুন্নাহার মায়া, ডিজিএম কামরুজ্জামান, অভ্যর্থনাকারী ফারহানা ইয়াছমিন, মার্কেটিং অফিসার মেহেদি হাসান, আল মামুন ও তাজবির হাসান।
র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার দম্পতি ভুয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম দিয়েছিলেন ‘সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড’। রাজধানীর উত্তরখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে কার্যালয় স্থাপন করেন তাঁরা। সামসুন্নাহারের গ্রামের বাড়ি নওগাঁয়। দেড় বছর আগে জুয়েলকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর দুজনে মিলে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণা শুরু করেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন জানান, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতেন। পরে আবেদনকারীদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হতো। তাঁরা সাক্ষাৎকারের জন্য এলে ভর্তি ফরম, প্রশিক্ষণ ও পরিচয়পত্রের খরচ বাবদ সাড়ে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হতো।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন পদ অনুসারে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা বলা হতো। তবে যোগদানপত্রে উল্লেখ করা হতো, তাঁদের কাজ হবে নতুন নতুন চাকরিপ্রার্থী সংগ্রহ করা। প্রার্থী সংগ্রহ করতে পারলে কমিশন হিসেবে তাঁদের বেতন দেওয়া হবে।

সামসুন্নাহার ২০২০ সালে ঢাকার দক্ষিণখানে ‘বি অ্যালার্ট সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’ নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরি করতেন বলে জানান র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক। তিনি বলেন, সেখান থেকেই সামসুন্নাহার প্রতারণার কৌশল শেখেন। এই চক্রের মূল টার্গেট ছিল চাকরিপ্রত্যাশী দরিদ্র শিক্ষার্থী।