
কোথাও জায়গা না পেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাড়িতে কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আজ বুধবার দুপুরে কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন স্থাপনের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
এ সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘থানা ভবন বানানোর জন্য কোথাও জায়গা না পেলে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার বাড়ির একটু জায়গা দিন। তাতে আপনার সুনাম হবে। আর কোথাও জায়গা না পেলে পাশের বহুতল ভবনের চারতলা-পাঁচতলা নিয়ে নেন, সেখানে থানা করেন।’
তেঁতুলতলা মাঠ ‘শিশুদের ফুসফুস, বয়স্কদের ফুসফুস’ মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘এ ফুসফুস নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। এখানে থানা নির্মাণের অন্যায় অনুমতি দেওয়া হলেও আমরা মেনে নেব না। এখান থেকে ইটপাথর সরাতে হবে। তা না হলে আমরা এখানে আস্তানা গাড়ব।’
মাঠ রক্ষায় আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বলেও সমাবেশে মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আন্দোলনে সম্পৃক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাওয়া চলবে না। আমরা সম্মিলিতভাবে মাঠকে রক্ষা করব। মাঠের পাশে দেয়াল, ইট-বালু ছুড়ে ফেলার আন্দোলনে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকব।’
পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের খোলা জায়গাটি তেঁতুলতলা মাঠ হিসেবে পরিচিত। সেখানে স্থানীয় শিশুরা খেলাধুলা করে। পাশাপাশি মাঠটিতে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। এই মাঠে কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এর প্রতিবাদ করছেন স্থানীয় লোকজন।
এই মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ায় গত রোববার ১৩ ঘণ্টা কলাবাগান থানায় আটকে রাখা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা রত্না ও তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলেকে। খবর পেয়ে বেলা দুইটার দিকে স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের ওই মাঠে যান বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ (বেলা) সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অধিকারকর্মীরা। পরে রাতে স্থানীয়দের সঙ্গে কলাবাগান থানার সামনে অবস্থান নিয়ে মা–ছেলের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। বিক্ষোভের মুখে রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানা থেকে মুক্তি পান সৈয়দা রত্না ও তাঁর ছেলে।