
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের সময় ২০১৯ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। এখনকার অবস্থাও প্রায় একই বলে দাবি করছেন বিক্ষুদ্ধ নাগরিকেরা।
বিক্ষুদ্ধ নাগরিকেরা বলছেন, সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ও বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আসল সমস্যা হচ্ছে, তাঁরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। তাঁরা মানুষকে মানুষ মনে করেন না। তাই মশা নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষুদ্ধ পুরান ঢাকাবাসীর ব্যানারে কয়েকজন ব্যক্তি মেয়রকে এডিস মশার লার্ভা উপহার দেওয়ার কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিক্ষুদ্ধ পুরান ঢাকাবাসী ব্যানারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মো. আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে সমাজকর্মী বলে দাবি করেছেন। নগর ভবনের সামনে এসে আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁর বাসা দক্ষিণ সিটির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল এলাকাতে। কর্মসূচিতে এসে তিনি মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আপনার এলাকার সমস্যার কথা কি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, এ সময় এমন প্রশ্নে আলাউদ্দিন বলেন, উদ্যোগ তো নিচ্ছে, তবে কাজ সেভাবে হচ্ছে না। অনুষ্ঠানে একটি কাচের কৌটায় করে লার্ভা আনা হয়। এসব লার্ভা কামরাঙ্গীরচর থেকে এনেছেন জানিয়ে আলাউদ্দিন বলেন, মশার উৎপাতে বাসায় ঘুমাতে পারছেন না।
এই কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে এসে জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, একটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাঁর এলাকা জুরাইনে এক ব্যক্তি গ্রাম থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নাতনিকে দেখতে এসেছিলেন। এই নানা ঢাকায় এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
মিজানুর রহমান যখন নগর ভবনের সামনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি মিজানুর রহমানকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি সাঈদ খোকনের লোক, এভাবে কথা বলছেন কেন?
পরে মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০১৯ সাল সাঈদ খোকন মেয়র সাহেব ঢাকায় ডেঙ্গু দিয়ে তছনছ করে ফেলেছিলেন। ২০১৯ সালে এখানেই দাঁড়ানোর কর্মসূচি নিয়েছিলাম। সাঈদ খোকন আর তাপসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’
জুরাইনের বিক্ষুদ্ধ এই বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা যে মানুষ, আমাদের যে সেবা দিতে হবে, এটা তারা মনে করে না। কারণ, তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা আমাদের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। এটা তো সত্য কথা। এটাই আসল কথা। এ জন্যই আমাদের এই অবস্থা।’
এদিকে মেয়রকে লার্ভা উপহার প্রদান অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে নগর ভবনের মূল ফটকের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আনসার সদস্যের সংখ্যা বাড়াতে দেখা গেছে। বিক্ষুদ্ধ নাগরিকেরা যখন নগর ভবনের সামনে আসেন, তখন মূল ফটকটি সংকুচিত করে দেওয়া হয়।
অবশ্য মেয়রকে লার্ভা উপহারের এই অনুষ্ঠান শেষে মেয়রকে লার্ভা না দিয়েই চলে যান বিক্ষুদ্ধ নাগরিকেরা। পরে যোগাযোগ করা হলে আলাউদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পযর্ন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৪১ জন মারা গেছেন। গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে আগের দিন সকাল আটটা পযর্ন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের অধিকাংশই রাজধানীর বাসিন্দা।