
পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জের নতুন সড়ক ও সায়েদাবাদ নতুন সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই পথে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া পয়োনিষ্কাশন নালা নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দয়াগঞ্জ বাজারের শরৎ গুপ্ত রোড থেকে প্রায় সায়েদাবাদ পর্যন্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, ওই দুটি সড়কের গর্তে যানবাহন পড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু সড়ক সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এলাকাটি ডিএসসিসির ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, দয়াগঞ্জ মোড় থেকে সায়েদাবাদ নতুন সড়কের মাথা পর্যন্ত ‘দয়াগঞ্জ নতুন সড়কের’ বিভিন্ন স্থানে ইটপাথর উঠে অনেক বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে৷ একইভাবে দয়াগঞ্জ নতুন সড়ক থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ‘সায়েদাবাদ নতুন সড়কের’ বিভিন্ন স্থানেও গর্ত হয়ে আছে। এর মধ্যে দয়াগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা। এই সড়কে যানবাহন চলছে হেলেদুলে। গর্তে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আসন থেকে নেমে রিকশা ও ভ্যান টেনে নিয়ে যাচ্ছেন চালকেরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে আছে। এ ছাড়া পয়োনিষ্কাশন নালা নির্মাণে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের পশ্চিম পাশে শরৎ গুপ্ত রোডে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে রাখা আছে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল।
সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে সায়েদাবাদ নতুন সড়কে এসেছেন রিকশাচালক আবদুল কাদের। তিনি বলেন, সড়ক ভাঙা থাকায় এই পথে চলাচল করতে ভয় হয়। কিছুদিন আগে দয়াগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশের গর্তে পড়ে তাঁর রিকশা উল্টে গিয়েছিল। এতে রিকশাযাত্রী পায়ে আঘাত পান। তিনিও হাতের কনুইতে আঘাত পান৷
দয়াগঞ্জের বাসিন্দা মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ওই দুটি সড়ক দিয়ে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলেই সড়কে কাদাপানির মাখামাখি। আর বৃষ্টি না হলে ধুলাবালিতে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটা যায় না। এ ছাড়া রেললাইনের পশ্চিম পাশের সড়কটি খুঁড়ে রাখায় এই এলাকার মানুষের জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জানতে চাইলে ডিএসসিসির ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক দুটি সংস্কারে দরপত্র চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কিন্তু কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে, কবে কাজ শুরু হবে, তা ডিএসসিসি থেকে জানানো হয়নি। সড়কগুলো ভাঙা থাকায় মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।