
ক্যাম্পাসের ভেতরে সড়ক দুর্ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিবের মৃত্যুকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে বামপন্থী তিন ছাত্রসংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট। এর প্রতিবাদে রাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়ে তাতে সর্বাত্মক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বামপন্থী এই জোট।
আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি–সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা এই আহ্বান জানান। এ সময় তাঁরা মাহমুদ হাবিবের মৃত্যুর দায়ভার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া এবং ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা সংস্কার ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য এককভাবে প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে দায়ী করা চলে না—প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এমন একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা প্রণয়ন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবি তুললেও তা মানা হয়নি।
জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিবাদ হওয়া সত্ত্বেও সেই একই কাঠামো যখন বজায় রাখা হয়, তার মধ্যে পড়ে কারও প্রাণ গেলে তাকে আমরা দুর্ঘটনা বলতে পারি না। এটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনে থাকা ব্যক্তিরা ‘সরকারের দালালিতে ব্যস্ত’ বলে মন্তব্য করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ একটি মৃত্যুকূপ। কিছুদিন আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগকে ডেকে শিক্ষার্থীদের পেটাতে বলেছিল। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার চেয়ে সরকারের দালালিতে বেশি ব্যস্ত। তারা মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি নিয়ে ব্যস্ত। এসব কারণেই তারা কারও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে চায় না। তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো দাম নেই। মাহমুদ হাবিবের মৃত্যুকে তাই নিছক দুর্ঘটনা বলা যাচ্ছে না। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমরা সর্বাত্মক সমর্থন জানাচ্ছি ও তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কে এম মুত্তাকী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়নের একই অংশের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজা। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীরা।