
ধোঁয়া ওঠা এক বাটি স্যুপ অথবা হালিম। সঙ্গে লুচি, পুরি, পেঁয়াজি বা অন্থন। আরও আছে শিককাবাব। শীতের সন্ধ্যায় জমবে ভালো। এ খাবারগুলো খেতে চাইলে যেতে পারেন মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে। খাবারের দোকানগুলোর জন্য বেশ জনপ্রিয় রাজধানীর এ সড়কটি।
ঘরটি ছোট। খুব বেশি হলে ১০ জন বসা যায়। দোকানের বাইরেও আছে বসার ব্যবস্থা। দোকানের নাম নেই। ‘নওশাদের স্যুপ’ নামে পরিচিত। গত মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায়, বাসা থেকে রান্না করা চিকেন স্যুপ মাত্র এসেছে। বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কেরোসিনের চুলার ওপর থাকবে। ক্রেতারা এখান থেকেই গরম স্যুপের স্বাদ পাবেন। নওশাদের বড় ভাই মো. আরিফ বলেন, ‘এই স্যুপ প্রথম দিন বেচি মাত্র ১০ বাটি। মানুষ বেশি খায় নাই। এখন তো ১০০ বাটির ওপরে বেচা হয়।’ দোকানের বয়স নয় বছর। সন্ধ্যার পরই ভিড় বাড়তে থাকে। নওশাদের স্যুপে টমেটো সসের সঙ্গে বোম্বাই মরিচ ও কাঁচা মরিচের সসও খেতে দেওয়া হয়। ঝালের চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতারা মরিচের সস নেন। স্যুপের দাম ৫০ টাকা।
এই স্যুপের দোকানের সঙ্গেই আছে জামালের হোটেল। বিভিন্ন ধরনের তেলে ভাজা খাবার পাওয়া যায়। নওশাদের স্যুপের সঙ্গে জামালের হোটেলের লুচি বেশ জনপ্রিয়।
জায়িদ আহসান ধানমন্ডিতে থাকেন। সন্ধ্যা হলেই বন্ধুদের নিয়ে চলে আসেন সলিমুল্লাহ রোডে। তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গার স্যুপ-হালিম খাই। কিন্তু সলিমুল্লাহ রোডেরটার তুলনা হয় না। ওদের স্যুপে চিকেনের পরিমাণ বেশি। খেতেও ভালো।’
হালিমের সঙ্গে কোয়েলের ডিম আর তেঁতুলের আচার। ভিন্ন স্বাদের এই খাবার পাওয়া যাবে মনা মামার চিকেন ভেজিটেবল স্যুপ অ্যান্ড হালিমের দোকানে। চাইলে স্যুপ বা হালিমের সঙ্গে অন্থনও খেতে পারেন। স্যুপ ৫০ টাকা, অন্থন ১৫ টাকা প্রতিটি ও হালিম ৬০ টাকা।
পাশেই আছে মুন্না ভাই হালিম অ্যান্ড স্যুপ। চার বছরের দোকান। দোকানের মালিক মুন্না বললেন, তাঁর হালিম ও স্যুপ দুটোই ৫০ টাকা করে। এ দোকানটির ঠিক উল্টো পাশেই সেলিমের কাবাবের দোকান। এর জনপ্রিয়তাও কম নয়। সঙ্গে আছে বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাবার।
স্যুপ, হালিম, কাবাব, তেলে ভাজা খাবার তো হলো। এবার চায়ে তো একটু চুমুক দিতেই হয়। মুন্না ভাইয়ের দোকানের পাশে আছে গোপাল মামার চা। সেলিমের কাবাবের পাশেও আছে একটি চায়ের দোকান। দুটি দোকানেই গরুর দুধের চা পাওয়া যায়।