দোকান থেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে রিকশায় তুলছেন খুচরা বিক্রেতা। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ১৩ অক্টোবর
দোকান থেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে রিকশায় তুলছেন খুচরা বিক্রেতা। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ১৩ অক্টোবর

এলপিজি বিক্রি দুই দিন বন্ধের ঘোষণায় চাহিদা বেড়ে গেছে, তবে সরবরাহ কম

‘আজ আমার এলপিজি সিলিন্ডারের অর্ডার আছে ২০০টির। কোম্পানি দিছে ৫০টি। এদিকে আমার কাস্টমার একটার পর একটা কল দিচ্ছে। কীভাবে বুঝাই, সংকটের কথা!’

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রেতা রবিউল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর।

বেশ কিছু দিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের এই সংকট চলছে বলে জানান রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল সোমবার থেকে সিলিন্ডারের চাহিদা আরও বেড়ে গেছে।

গতকাল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখবে। এই সময় এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ কয়েক দফা দাবিতে সমিতি এই ঘোষণা দেয়। সমিতি আরও বলেছে, দাবি মানা না হলে পরে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের এই ঘোষণায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে সিলিন্ডারের সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

একই সংকটের কথা বলেছেন ধানমন্ডির শংকরের দিপু এন্টারপ্রাইজের মালিক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার দৈনিক সিলেন্ডারের চাহিদা ৭০ থেকে ৮০টা। অথচ আজকে পাইছি, মাত্র ২০টা। অনেক মানুষ কল দিচ্ছেন। কিন্তু অর্ডার নিতে পারছি না।’

রাজধানীর আদাবর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলোর মালিক-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে একই সংকটের কথা শোনা গেল। সবার ভাষ্য, ক্রেতারা দোকানে কল দিচ্ছেন সিলিন্ডারের জন্য। কেউ আবার সশরীরে এসে ঘুরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পাচ্ছেন, বাকিরা ফিরে যাচ্ছেন।

ফার্মগেটের বিক্রেতা মো. হেদায়েতুল্লাহ বলেন, যাঁরা অর্ডার দিয়েছেন, তাঁদের আগে দিচ্ছি। নতুন অর্ডার নিয়ে রাখছি। সিলিন্ডার এলে দেব।

দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বেশি

৪ অক্টোবর দেশের বাজারে এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দোকানে প্রতিটি ১২ কেজির এলপিজি সিলেন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়।

মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের কাছে ৪৫ কেজির একটি সিলিন্ডার আছে। তারা সিলিন্ডারটির দাম চাচ্ছে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। এ দোকানটি ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। ৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করছে বোতলসহ ১ হাজার ৮০০ টাকা।

দোকানটির কর্মচারী সাগর হোসেন বলেন, ‘আজকে ১২ কেজির ৪০টা সিলিন্ডারের অর্ডার আছে। কিন্তু একটা গাড়ি আসছে ২০টা নিয়ে। মানুষ এত বেশি কল দিচ্ছেন, অনেককেই দিতে পারছি না।’

আজ সকালে ধানমন্ডিতে কথা হয় রাইসুল ইসলাম নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি দিপু এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে ১২ কেজির একটি সিলেন্ডার কিনতে এসেছেন। রাইসুল শংকর এলাকায় রাস্তার পাশে ফুটপাতে চা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, তাঁর কাছে থাকা সিলেন্ডারে আরও দুই-তিন দিন যাবে। কিন্তু শুনেছেন, দুই দিন সিলেন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। তাই আগেভাগে কিনতে এসেছেন। গ্যাস না পেলে দোকান বন্ধ রাখতে হবে।