
জনগণের টাকায় নতুন সড়ক নির্মাণের পর অন্য কোনো সংস্থাকে সেটি আবার কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
ঢাকা ওয়াসা একটি প্রকল্পের পানির পাইপ বসাতে সদ্য নির্মিত সড়ক কাটতে চাইছে। তবে তাতে অনুমতি না দিয়ে বিকল্প পথে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসসিসি।
আবদুস সালাম বলেন, দু–তিন বছর ধরে এলাকার মানুষ দুর্ভোগ সহ্য করার পর নতুন সড়ক পাচ্ছেন। সেই সড়ক আবার খুঁড়ে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা এবং জন–অর্থের অপচয় করতে দেওয়া হবে না। এ জন্য তিনি সড়কটি খননের অনুমতি দিতে পারবেন না।
আজ সোমবার সকালে রায়েরবাজার স্লুইসগেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত ইনার সার্কুলার রিং রোডের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসক এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, ‘বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের’ আওতায় এ সড়ক খুঁড়ে প্রায় ছয় ফুট ব্যাসের পানির পাইপ বসাতে চায় ওয়াসা। এ নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে একাধিক সভাও হয়েছে। ডিএসসিসি ওয়াসাকে বিকল্প পথ নির্ধারণের অনুরোধ করেছে।
তবে নতুন সড়ক নির্মাণের পর খনন বন্ধের এমন ঘোষণা ডিএসসিসিতে নতুন নয়। ২০২০ সালে তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ঘোষণা দিয়েছিলেন, ডিএসসিসি কোনো সড়ক নির্মাণের পর অন্তত তিন বছরের মধ্যে সেটি খনন করতে দেওয়া হবে না। সেবা সংস্থাগুলোকে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতেও বলা হয়েছিল। এরপরও নতুন বা সংস্কার করা সড়ক কাটার ঘটনা বন্ধ হয়নি।
সড়ক খননে সমন্বয় আনতে ২০১৯ সালের নীতিমালাতেও ‘ওয়ান–স্টপ সমন্বয় সেল’-এর মাধ্যমে অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। অনুমতি ছাড়া সড়ক কাটলে জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কিন্তু ঢাকায় বিভিন্ন সেবা সংস্থার অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি ও একই সড়ক বারবার কাটার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, রায়েরবাজার থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার আট লেনের সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর চারটি এক্সপ্রেসওয়ে ও চারটি সার্ভিস লেন। প্রকল্পে তিনটি ভেহিকুলার ওভারপাস, তিনটি উড়ালসড়ক, আটটি স্লুইসগেটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ।
এই ধাপ শেষ হলে লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রশাসক আবদুস সালাম।